মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কাটিয়ে গতি ফিরেছে চীনের অর্থনীতিতে। আজ সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য উৎপাদন আর ভোক্তা ব্যয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিরই খবর দিয়েছে। তবে সেই প্রবৃদ্ধি ঠিক কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ।
পূর্বাভাসের চেয়ে প্রবৃদ্ধি কম : গেল বছরের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। যা দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৩ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতিবিদরা যে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বেইজিং।
ভোক্তাদের আস্থা : চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এখনও নেতৃত্ব দিচ্ছে শিল্পখাতগুলো। তবে এর কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে ভোক্তারাও। গত মাসে দেশটিতে খুচরা বিক্রির প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
যানবাহন বিক্রি এই অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির সহায়তা করেছে। তবে এ বাদেও খুচরা বিক্রিও বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, এবার হাত খুলে খরচ করছেন ভোক্তারা।
সম্পত্তিতে বিনিয়োগ বেড়েছে : গত বছর একই সময়ের চেয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সম্পত্তিতে বিনিয়োগের পরিমাণ অনেকটা ভালো ছিল। এমনকি নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে বেইজিং এই খাতটিতে বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি জোরদার করার পরেও। তবে রিয়েল এস্টেট খাতটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সহায়ক হয়ে দাঁড়ালেও উদ্বেগ রয়েছে ক্রমবর্ধমান ঋণ নিয়ে।
স্থায়ী বিনিয়োগ : এখনও বিনিয়োগে চালিকা শক্তি হচ্ছে সরকারি ব্যয়। চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে স্থায়ী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রথম থেকেই কম ছিল, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
করোনা মহামারীর প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে নীতি নির্ধারকদের নেওয়া আর্থিক ও আর্থিক পদক্ষেপের প্রতিচ্ছবি। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক হলে এই রেশিও অনুপাতটিও স্বাভাবিক হবে কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আনন্দবাজার/টি এস পি









