তেভাগা আন্দোলনের জনক হাজী দানেশেন নামে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমৃদ্ধির পিছনে কৃষক সমাজের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠে ভারতীয় উপমহাদেশের সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এই উপমহাদেশ। তারপরও কৃষকদের ওপর চলতো অত্যাচার, নির্যাতন এবং নিপীড়ন। দিতে হতো উৎপাদিত ফসলের অর্ধেকের বেশি।
নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং ফসলের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কৃষক সমাজকে সুসংগঠিত করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন দিনাজপুর তথা বাংলার কৃতি সন্তান তেভাগা আন্দোলনের জনক এবং কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ। ছিনিয়ে নিয়ে আসে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার। সেই তেভাগা আন্দোলনের জনকের স্মৃতি বিজড়িত দিনাজপুরে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে কৃষক নেতার নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি রংপুর বিভাগের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাস
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু ১৯৭৯ সালে এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট (AETI) হিসেবে যা কৃষিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রী প্রদান করতো। ১১ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে এটিকে স্নাতক পর্যায়ে কৃষি কলেজে উন্নীত করা হয়। এটি তখন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত ছিল। ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিনাজপুরের গৌর-এ শহীদ ময়দানে তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিশাল জনসভায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হাবিপ্রবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০০০ সালে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার লক্ষে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। গত ২০০১ সালের ৮ জুলাই হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ করা হয়। ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ১৬ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসাইন মিঞাঁ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য।
আট অনুষদ অধীনে রয়েছে ৪৫ বিভাগ
প্রতিষ্ঠাকালে কৃষি অনুষদে সর্বমোট ১২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে রংপুর বিভাগের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে হাবিপ্রবিতে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। রয়েছে ৯ টি অনুষদের আওতায় ৪৫ টি বিভাগ, ৩২৩ জন শিক্ষক, ২১৪ জন কর্মকর্তা এবং শতাধিক কর্মচারী। পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদের অধীনে ৪০টি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১২টি বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। প্রকৌশল অনুষদঃ খাদ্য এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকৌশল, কৃষি প্রকৌশল, স্থাপত্যবিদ্যা, পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল; কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদঃ কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল,ইলেক্ট্রনিক্স ও যোগাযোগ প্রকৌশল,তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল; ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদঃ মার্কেটিং, একাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং; কৃষি অনুষদঃ এগ্রিকালচার ;মৎস্য অনুষদঃ ফিসারিজ ; ভেটেরিনারি এবং প্রাণী অনুষদঃ ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ;বিজ্ঞান অনুষদঃ পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, পরিসংখ্যান ;সামাজিকবিজ্ঞান ও কলা অনুষদঃ ইংরেজি, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন (সংগঠন ও অবকাঠামো)
বিশ্ববিদ্যালয়টি দিনাজপুর শহর হতে ১০ কি.মি উত্তরে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে প্রায় ৮৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মননশীলতা বিকাশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভিন্ন সময়ে আয়োজন করা হয় আন্তঃঅনুষদ এবং আন্তঃহল টুর্নামেন্ট, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সহ অন্যান্য মেধাবিকাশের কর্মকাণ্ড। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গয়ে উঠেছে সংবাদকর্মীদের সংগঠন সাংবাদিক সমিতি, অর্ক সাংস্কৃতিক জোট, সেঁজুতি সাংস্কৃতিক ঐক্য, রোটারেক্ট ক্লাব, ডিবেটিং সোসাইটি, ক্যারিয়ার ক্লাব, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্লাব, ওয়েলফেয়ার ক্লাব, প্রথম আলো বন্ধুসভা, কালের কন্ঠের শুভ সংঘ, ফিল্ম ক্লাব, রোভার স্কাউটস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সহ অন্যান্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দুষ্প্রাপ্য গাছ-গাছালির আকর্ষণীয় সংগ্রহ নিয়ে গড়ে উঠা একটি সমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেন। আছে লাল-সাদা ইটের দৃষ্টিনন্দন সুবিশাল ভবন, আছে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার, শরীর গঠনের জন্য জিমনেসিয়াম, খাবার প্রিয়দের জন্য ক্যাফেটেরিয়া। এছাড়া আড্ডাবাজদের জন্য ডি-বক্স চত্বর ও টিএসসি। যেখানে নিয়মিত বসে শিক্ষার্থীদের আড্ডা চলে সারাদিন। অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে বৃহৎ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ৫টি একাডেমিক ভবন(১টি নির্মাণাধীন), একটি প্রশাসনিক ভবন, ৫টি ছাত্র হল(একটি বিদেশী শিক্ষার্থীদের), ৪টি ছাত্রী হল (১টি নির্মাণাধীন) , আধুনিক সাজসজ্জা বিশিষ্ট ১০০ আসনের একটি ভিআইপি সেমিনার কক্ষ, ৬০০ ও ২৫০ আসন বিশিষ্ট দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটরিয়াম। এছাড়াও রয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্লাব ,২টি মসজিদ, আবাসিক ইউনিট/ভবন, ১টি শিশুপার্ক, পোষ্ট অফিস, রূপালী ব্যাংক শাখা, মেঘনা ব্যাংক শাখা, নিজস্ব বৈদ্যুতিক লাইন, বৃহৎ খেলার মাঠ, একটি ভি. আই. পি গেস্ট হাউস, হাবিপ্রবি স্কুল, এ্যাম্বুলেন্সসহ ১২ শয্যার একটি মেডিকেল সেন্টার এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।
গবেষণা ও প্রশিক্ষণ
গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য রয়েছে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং (আই.আর.টি.)। মেধাকে আরো বিকাশের জন্য গবেষণালব্ধ থিসিস, রিপোর্ট, জার্নালের পাশাপাশি রয়েছে ৪০ হাজার বইয়ের সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। স্কলারশীপ ও ক্যারিয়ার সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আছে ক্যারিয়ার এডভাইজারি সার্ভিস (ক্যাডস) এবং একটি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা কমপ্লেক্স।
সম্প্রতি উদ্ভাবিত ফসল ও যন্ত্র
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারুফ আহমেদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কালোজাম নিয়ে গবেষণা করে এর ঔষধি গুণ ও জুস তৈরির পদ্ধতি এবং পাল্প এক্সট্রাক্টর মেশিন উদ্ভাবন করেছেন।
নতুন উচ্চফলনশীল জাতের ধান উদ্ভাবনের জন্য কৃষি অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল গবেষণায় চলতি আমন মৌসুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে নতুন জাতের ধান উদ্ভাবনের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।এই খরা ও বন্যাসহিষ্ণু ধানের জাতটি দ্বিগুণের বেশি ফলনশীল হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। উচ্চফলনশীল ধানগাছটির আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, এর কাণ্ড শক্ত ও মজবুত হওয়ার কারণে রোপণ থেকে শুরু করে ধান উত্তোলন পর্যন্ত পুরো মৌসুম জুড়ে গাছ হেলে না পড়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। গবেষকদের দাবি, ধানগাছের পাতা শেষ পর্যন্ত সবুজ থাকার ফলে ফলন ভালো হবে এবং গবাদি পশুর গুণগত খাদ্য চাহিদাও পূরণ হবে।
প্রতিবছরই বর্ষার মৌসুমে ভুট্টা ও ধান শুকানো নিয়ে বিপাকে পরে বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণ কল্পে বিশ্ববিদ্যারয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন সরকার ও তাঁর নেতৃত্বে একদল গবেষক দল আবিষ্কার করেন 'টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ার' যন্ত্রের। এই যন্ত্রের মাধ্যমে খুব দ্রুত সময়ের মাঝে অল্প খরচে ধান কিংবা ভুট্টা শুকানো সম্ভব ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের পিএইচডি গবেষক ফররুখ আহমেদ-এর গবেষণায় এবং অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস এর তত্ত্বাবধানে করলা'র দু’টি নতুন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। জাত দু’টির নাম দেওয়া হয়েছে 'HSTU-1' ও 'HSTU-2'।
কৃষক সেবায় ক্যাম্পাস
কৃষকের দোর গোড়ায় কৃষিসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কৃষক সেবা কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষক সেবা কেন্দ্র থেকে খুব সহজেই সেবা নিতে পারেন কৃষক সমাজ। কৃষক সেবা কেন্দ্র থেকে ১.কৃষিবিষয়ক যেকোনো তথ্য, পরামর্শ, প্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শ; ২.গবাদি পশু পাখি পালন ও চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শ; ৩.মৎস্য সম্পদ ও মৎস্যজীবীদের উন্নয়নের প্রচেষ্টা; ৪.কৃষি উন্নয়নে ই-কৃষি সেবা চালুকরন; ৫.আধুনিক কৃষি যন্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান; ৬.হেল্পডেক্স থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারবেন কৃষক সমাজ।
গবাদিপশুর চিকিৎসা সেবায় রয়েছে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল ও মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক। ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল ও মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষকদের পাশাপাশি দিনাজপুর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার খামারি এবং পোষা প্রাণীর অভিভাবকগণ উপকৃত হচ্ছেন।
সর্বোচ্চ বিদেশী শিক্ষার্থী
বাংলাদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিকে আকৃষ্ট হয়ে প্রতিনিয়ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বিদেশী শিক্ষার্থীদের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে হাজী মোহাম্মদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(হাবিপ্রবি)।বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের ৬টি দেশের মোট ২২৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। আর শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে একটি অধিভুক্ত কলেজ
২৬ নভেম্বর ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অবস্থিত শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ'কে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্তি প্রদানের বিবেচ্য বিষয়টি অনুমোদন করে। এরপর ২০১৩ সালে ১৩ এপ্রিল রিজেন্ট বোর্ডের ৩০তম সভার ৭নং আলোচ্য বিষয়ের সিন্ধান্ত ক্রমে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১ সনের ৩৫ নং আইনের ৬(৫) এর ধারা অনুয়ায়ী শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ'কে হাবিপ্রবি-র অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে চুড়ান্ত ভাবে অনুমোদন করে রিজেন্ট বোর্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি কলেজে প্রয়োজনীয় ফি ও নির্ধারিত আবেদন জমা দেয়ায় বিএসসি এজি. (অনার্স), বিবিএ এবং সিএসই কোর্স চালুকরণসহ ২০১৪ শিক্ষাবর্ষে কৃষিতে ৫০জন, বিবিএ ১৪০ জন, এবং সিএসই ৩৫ জন ভর্তির নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সভা রিজেন্ট বোর্ড।
২৪ বছরে পদার্পণ
উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত দেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক বর্ণাঢ্য ও গর্বিত ঐতিহ্যের প্রতীক হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। পেয়েছে দেশবরেণ্য সাতজন উপাচার্য। সপ্তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান। দায়িত্ব নেয়ার পরপরই করোনায় শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে নিয়েছেন একাধিক সিদ্ধান্ত। প্রনয়ণ করেছেন সেশনজট নিরসনে নীতিমালা। শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত হচ্ছে কর্মশালা।
শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এই তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশ্বের কাছে সুপরিচিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. কামরুজ্জামান।








