ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় চলতি আমন মৌসুমে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে কাঁচা সবুজ আর হলুদে ধান। সেইসঙ্গে সবুজ ক্ষেতের মাঝে শোভা পাচ্ছে ‘সুগন্ধি কালিজিরা’ ধান। তবে সুগন্ধ যুক্ত এ ধানের ফলন ও বাজার দর ভালো হওয়ায় দিন দিন এ ধানের আবাদ বাড়ছে।
একাধিক কৃষক জানায়, এক সময় কালিজিরা ধান ক্ষেতে খুবই সুস্বাধু হওয়ায় বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রায় ৩০ বছরের ব্যবধানে উফশী ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান জায়গা দখল করে নিলে ও সৌখিন কৃষকরা এ ধানকে আজও ধরে রেখেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়,চলতি রোপা আমন মৌসুমে পৌর শহরসহ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়। এরমধ্যে ১৫ হেক্টর জমিতে কালিজিরা ধান আবাদ করা হয়। মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া ও প্রকৃতি ধান চাষের অনুকুলে থাকায় মাঠে কোন রোগ বালাই না হওয়ায় ফলন ভাল হয়েছে। অন্য জাতের ধান আবাদে বিঘা প্রতি যেখানে ১৭-২২ মণ ধান পাওয়া গেলেও কালিজিরায় ৫-৬ মণ ধান পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তারাগন, উমেদপুর , আদমপুর, ধাতুরপহেলা, তুলাবাড়ি, মোগড়া, দরুইনসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ ফলনশীল আমন ধানের পাশাপাশি সৌখিন কৃষকরা সুগন্ধি জাতের কালিজিরা ধান আবাদ করা হয়। মাঠ জুড়ে এখন সুগন্ধি ধানের সমারোহ। ইতিমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে মাঠজুড়ে কালিজিরা ধানের ফলন খুবই ভালো হয়েছে।
কৃষক মো. রমজান মিয়া বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ মৌসুমে ও প্রায় ২৫ শতক জমিতে কালিজিরা ধানের আবাদ করেন। বর্তমানে তার জমিতে ফসলের অবস্থা খুবই ভালো। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা যাবে। এই জমিতে ৪ মনের উপর ধান পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
কৃষক মো. মোবারক হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ৩০ শতক জায়গায় কালিজিরা ধান তিনি আবাদ করছেন। অন্যান্য ধানের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে বলে জানায়। এই সুগন্ধি চিকন চাল দিয়ে তৈরি হয় পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, ক্ষির-পায়েস, ফিরনি ও জর্দাসহ আরো সুস্বাদু মুখরোচক নানা ধরনের খাবার তৈরী করা হয়। বর্তমানে বাজারে কালিজিরা চাল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ৭-৮ হাজার টাকার ধান বিক্রি করতে পারবেন জানায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলায় আমনসহ সুগন্ধি যুক্ত কালিজিরা ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা নিজ আগ্রহে কালিজিরা জাতের ধান চাষ করেন। এ ধানটি দেশীয় জাতের ধানের মধ্যে অন্যতম। এই সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ প্রতি বছর বাড়ছে। এই ধানে উৎপাদন খরচ কম থাকায় ও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কৃষকদের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ধানের ফলন ভালো রাখতে কৃষকদেরকে সব সময় পরামর্শ দেওয়া হয়।









