কাপ্তাই উপজেলায় করোনার প্রকোপে প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক বন্ধ প্রায় সব সাপ্তাহিক হাট বাজারগুলো। এতে অসহায় হয়ে পড়েছে কাপ্তাই এলাকার অনেক দরিদ্র কৃষক। সাপ্তাহিক হাট বন্ধ থাকায় তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি তো করতেই পারছেনা বরং অধিকাংশ পণ্য পঁচে যাচ্ছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে অসহায় দরিদ্র কৃষকেরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই উপজেলার ৫ নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ত্রিপুরাছড়ির অধিকাংশ কৃষকের মুখে বিষাদের ছাঁয়া। সেখানকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের এই কৃষির উপর নির্ভরশীল হয়ে সংসার চালাতে হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কাপ্তাইের হাট বাজার গুলো বন্ধ হওয়ায় তারা কোন পণ্য বিক্রয় করতে পারছেনা বরং অনেক পণ্য দ্রব্য নস্ট হয়ে পঁচে যাচ্ছে। তারা আরো জানান, সাপ্তাহিক হাট বাজার গুলো বন্ধ বিদায় তারা তাদের বাড়ির কাছাকাছি বড়ইছড়ি- ঘাঘড়া সড়কের পাশে বিক্রয়ের উদ্যোশে বসেও তেমন একটা বিক্রয় করতে পারছেনা। কারণ করোনার প্রকোপে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় কোন ক্রেতায় আসছেনা, মাঝেমাঝে দুই একজন এলাকাবাসী ক্রেতা আসলেও খুব নিম্ম মূল্যে তাদের উৎপাদিত দ্রব্যগুলো বিক্রয় করতে হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, তাদের উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য টমেটো, বেগুন, থানকুনি পাতা, রাঙ্গা আলু, কাঁচামরিচ সহ অসংখ্য পণ্য বিক্রয়ের অভাবে নস্ট হয়ে যাচ্ছে। যেখানে তারা সাপ্তাহিক হাটে বিক্রয় করে কয়েক হাজার টাকা পেতো সেখানে তারা দিনে ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশী আয়ও করতে পারছেনা। খুব মানবেতর অসহায় জীবন কাটছে তাদের। তারা বলেন এইরকম অবস্থা চলমান থাকলে কিভাবে তারা পরিবার চালাবে সেই চিন্তায় দিশেহারা। তারা সকলেই সীমিত আকারে কয়েক ঘন্টার জন্য সাপ্তাহিক বড়ইছড়ি বাজার চালু রাখার জন্য দাবি জানান।
এইসময় কাপ্তাই ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চিরন্জিত তঞ্চগ্যার সাথে কথা হলে তিনি জানান, তাঁর এলাকার অধিকাংশ জনগণ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষিপণ্য বিক্রয় করে তাদের সংসার চলে। তিনিও সাপ্তাহিক হাটবাজার সীমিত আকারে চালু রাখার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এই ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল এর দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তিনি জানান, সরকার করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতকরণের লক্ষে সাপ্তাহিক হাটবাজার বন্ধ রেখেছে, কারন হাটবাজারে প্রচুর ক্রেতাবিক্রেতা আগমন ঘটলে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে, তবে তিনি কৃষকদের সাপ্তাহিক হাটবাজার দিন ছাড়া পচনশীল দ্রব্য নিদিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে তাদের এলাকার নিকটস্থত বাজারে বিক্রি করার পরামর্শ দেন।
আনন্দবাজার/এফাআইবি








