প্রবৃদ্ধিতে যুদ্ধের প্রভাব--------
- টানা ৮ মাস পর হঠাৎ স্লথ
চলতি বছরের শুরু থেকে দেশের আমদানি-রপ্তানি অনেকটা বেড়ে যায়। এতে বেসরকারি খাতের ঋণের চাহিদাও ব্যাপক বেড়েছে। তবে টানা আট মাস পর বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ফেব্রুয়ারিতে এসে কিছুটা কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্য সরবরাহে প্রভাব পড়ায় এ ঋণ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রমতে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি কমেছে দশমিক ৩৫ পয়েন্ট। যদিও আগে মাস জানুয়ারিতে প্রায় আড়াই বছরের মধ্যে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ। তবে, এ খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। এরপর ডিসেম্বরে এসে এ ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৭৭ হাজার ১৬৭ কোটি টাকায়। এর আগে চলতি জানুয়ারিতে বেসরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৬৬ হাজার ২২৩ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্য সরবরাহে প্রভাব পড়ায় এ ঋণ কমেছে। বিবুর রহমান বলেন, কোভিড পরবর্তী শিল্প কারখানাগুলো পুরোদমে উৎপাদন চালু করায় দেশে ঋণের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষে করে ছোট উদ্যোক্তারাও অধিক পরিমাণে ঋণ নিয়েছে; যার ফলে সার্ভিকভাবে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। জুনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষমাত্রা পুরণ হবে আশা করি।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, অধিক পরিমাণ আমদানি বৃদ্ধি, বিশেষ করে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়ার ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ বাড়ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই-জানুয়ারিতে ঋণপত্র খোলার হার (এলসি) বেড়েছে ৪৯ শতাংশ ও ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছে ৫২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এতে ডলারের চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়েছে। যদিও সেই তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। এদিকে জুলাই-ফেব্রুয়ারি আট মাসে প্রবাসী আয় কমেছে ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাচ্ছে। ব্যাপক চাহিদা থাকায় এলসি খুলতে হয়েছে বেশি। যার কারণে পুরো ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। বিশেষ করে ক্যাপিটাল মেশিনারি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুলাই মাসে মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। এতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কোভিডের কারণে গত মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি খুবই কম ছিল। সে সময়ে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে। এরপর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে জানুয়ারি পর্যন্ত বেড়েছে এবং ফেব্রুয়ারিতে কিছুটা কমেছে।









