অর্গানিক ফুডসহ নানা ভেজালমুক্ত পণ্য খুজঁতে ব্যস্ত রাজধানীর মানুষ। ভেজালমুক্ত জিনিস কিনতে কেউ কেউ চলে যান গ্রামে। এছাড়াও পাহাড়ের নানারকম পণ্যেও ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে মানুষের মাঝে। তবে সময় না পাওয়া এসব পণ্য কিনতে যাওয়া হয়ে ওঠে না গ্রাম কিংবা পাহাড়ে। তাই এসব ভেজালমুক্ত পণ্য নিয়ে পাহাড়ই চলে এসেছে রাজধানীতে।
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় উৎপাদিত সবজি, শস্য, ফলমূল, বস্ত্র, পাট, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা গৃহস্থালি পণের্য মেলা। মেলায় আছে, পাহাড়ি, সবজি, খাবার, ফলমূল, ঘর সাজানোর নানা পণ্য, কাপড়চোপড়, কলা, কমলালেবু, কুমড়ো, বেগুন, পেঁপে, আনারস, বাতাবি লেবু, কচু, হলুদ, আদা, মরিচ, শুটকিসহ অনেক পণ্য।
কৃষিপণ্যে ভেজাল, নিম্নমানের প্ল্যাস্টিক পণ্য আর বিদেশি কাপড়ে যখন বাজার সয়লাব, তখন চাহিদা বাড়ছে পাহাড়ি পণ্যের। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর প্রচার ও বিপণনের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এই মেলা আয়োজিত হয়ে আসছে গত পাঁচ বছর ধরে। এবারের মেলায় তিন পার্বত্য জেলা থেকে আসা উদ্যোক্তাদের প্রায় ১০০ টি স্টল রয়েছে। এসব স্টলে মিলছে পাহাড়ি পোশাক, জুমের উৎপাদিত কৃষি পণ্য, ফল-ফলাদি ও পাহাড়ি বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী। এছাড়াও মেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর ও সংস্থাসমূহের স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। এখানে থাকছে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার শিল্পীদের পরিবেশনা।
ক্রেতাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পাহাড়ি কৃষিপণ্য প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত হয়, সুস্বাদু, সার বা কীটনাশকের ব্যবহার কম তাই তারা এগুলো কিনছেন।
একটি স্টলে দেখা গেল জুম চাষের নানা পণ্য সামগ্রী। স্টলে ছিলেন, রাঙামাটি সদর উপজেলার উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রাজিব রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, রাঙামাটির বিভিন্ন পাহাড়ে কীটনাশক বিহীন উৎপাদিত কৃষিপণ্য রয়েছে। কয়েকরকম বিন্নি ধানের চাল, ফলমূল ও মশলাসহ নানা কৃষিজ পণ্য রয়েছে এখানে। তিনি বললেন, এসব পণ্যের প্রচুর চাহিদা দেখতে পাচ্ছেন, বিক্রিও ভালো হচ্ছে। সারা বছর এসব ঢাকায় পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেরকম স্থায়ী ব্যবস্থা নাই। তবে অনেকেই তাদের ফোন নাম্বার নিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের উদ্যোগে পরে আনার জন্য।








