আগামী দুই তিন মাস পর পৃথিবীতে প্রতিদিন তিন লাখ মানুষ অনাহারে মারা যাওয়ার আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। গত বছরের শেষের দিকে পঙ্গপালের কারণে পৃথিবীর ১০ শতাংশ মানুষ চরম খাদ্য সংকটে পড়বে বলে হুঁশিয়ার করেছিল জাতিসংঘ। চলতি বছরের শুরু থেকেই করোনাভাইরাসের প্রকোটে কয়েক গুণ বেড়েছে খাদ্য সঙ্কট।
পঙ্গপালের হানায় আফ্রিকার ৬টি দেশে ২ কোটি মানুষ খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের একশোর বেশি দেশে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে পুরো পৃথিবীতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা ছিল আগে থেকেই।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রকল্প পরিচালক এমব্রোজ গেটিস বলেন, আমরা পঙ্গপাল নির্মূলে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছি সেগুলো করোনাভাইরাসের কারণে হওয়া লকডাউনে আটকে আছে। তাই আমরা স্বল্প পরিসরে বিমানের মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছি। তবে, এটি প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। তাই এটি বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে যার পরিমাণ এখনই বলা যাচ্ছে না। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, সারাবিশ্বে নতুন করে ৩ কোটি মানুষের খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। তাদের মধ্যে ২ কোটি মানুষকে সহায়তা করার সুযোগ রয়েছে। আগামী ৩ মাসের মাথায় প্রতিদিন ৩ লাখ মানুষ সারা বিশ্বে খাদ্যের অভাবে মারা যাবেন। এ মৃত্যু করোনাভাইরাসের সাথে সম্পর্কিত নয়।
খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান, এই সংকটের সময় আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বিক্রি অন্তত ৭৭ শতাংশ বাড়াতে চাই। এর জন্য আমরা অনলাইনে বিক্রয় আদেশ গ্রহণ এবং মানুষের দরজায় পণ্য পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু করেছি।
এদিকে করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির জানায় বর্তমানে বিশ্বে দেড় কোটি মানুষ চরম খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে। বছর শেষে এ সংখ্যা ২৬ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আনন্দবাজার/ টি এস পি









