মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে সরিষা কাটা শুরু হয়েছে। ক্ষেত থেকে সরিষা কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আগাম সরিষার চাষ হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত প্রতিমণ হাইব্রিড জাতের মাঘি সরিষার দানা বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা দরে। এছাড়া দেশী জাতের চৈত্রা/রাই সরিষার প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪০০০ থেকে ৪২০০ টাকা করে। তবে এবছর সরিষার আশানুরূপ ফলন হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আড়িয়াল বিল এলাকার মদনখালী, শ্রীধরপুর, হাঁসাড়া, আলমপুর এলাকায় কিছু কিছু জমিতে সরিষা কাটা হচ্ছে। বীরতারা ও ভাগ্যকুল এলাকার পদ্মার চরে সরিষা পরিপক্ক হচ্ছে। কিছুদিন পর এসব ক্ষেতের সরিষা কাটা শুরু হবে।
আড়িয়াল বিল এলাকার মদনখালীর মো. সেন্টু বলেন, ১৪০ শতাংশ জমিতে মাঘি সরিষার চাষ করেছি। সরিষাকাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। চলতি বছর বিঘায় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অসমেয়ের বৃষ্টির কারণে এমনটা হয়েছে। পশ্চিম হাঁসাড়ার তালেব মিয়া বলেন, ৫ বিঘা জমিতে রাই ও মাঘি সরিষার আবাদ করেছেন। গত বছরের তুলনায় তার জমিতে এবার সরিষার অর্ধেক ফলন হয়েছে। সরিষা কাটা শেষে জমিতে ধানের চারা রোপণ করছেন তিনি। বাড়ৈখালীর সরিষা চাষি আলেক মাঝি জানান, স্থানীয় পাইকারের কাছে প্রায় ১৬ মণ সরিষা বিক্রির দরদাম চলছে। বাম্পার ফলন হলে সরিষা চাষে আর্থিকভাবে আরো বেশী লাভবান হতেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার শান্তনা রানী জানান, চলতি বছর প্রায় ৩৮৩ হেক্টর জমিতে সরিষা উৎপাদণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অসময়ে টানা বৃষ্টিতে কিছু সরিষার জমি নষ্ট হয়েছে। কৃষক পুনরায় জমিতে বীজ বপন করেন। আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতিতে সরিষার ফলন কিছুটা কম হয়েছে।









