মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যক চা বাগান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকায় শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়। মহামারী করোনাভাইসের সংক্রমণ ঘিরে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এখানকার চায়ের বাজার পুরোপুরি ক্রেতাশূন্য ছিল। তবে বর্তমানে মন্দাভাব কাটিয়ে উঠতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে শ্রীমঙ্গলের চায়ের বাজার। ক্রমেই চায়ের দোকানগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রেতার আনাগোনা।
কিছুদিন আগেও এ চায়ের দোকানগুলো ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়লে ছিল, এখন তা ধীরে ধীরে চাঙা হতে শুরু করেছে। ১ জুলাই থেকে সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্তের পর সুফল ভোগ করছে চায়ের মার্কেট। একক বা দলগতভাবে ক্রেতারা এসে চা কেনার ফলে চায়ের দোকান গুলোতে কাটছে মন্দাভাব।
গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে ২০১৮ সালের ১৪ মে সিলেটবাসী বহু প্রতীক্ষিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবং শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত টি প্ল্যান্টার অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিপিটিএবি) নানামুখী উদ্যোগের ফলে শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কার্যক্রম চালু করা হয়ে ছিল। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তর থেকে শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রের কার্যক্রমের অনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
টি প্ল্যান্টার অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক জহর তরফদার জানান, চলতি বছরের ২ জুন ও ১৭ জুন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রীমঙ্গলে আমাদের দুটো চা নিলাম কেন্দ্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনাভঅইরাসের কারণে দেশের অন্য স্থানের খরিদদার উপস্থিত হতে না পারলেও স্থানীয়রা খরিদদার উপস্থিত ছিলেন। আশার করছি আমরা ধীরে ধীরে চা বিক্রির নানান সংকট কাটিয়ে উঠবো।
শ্রীমঙ্গলের চা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান গ্রিনলিফ টি’র ম্যানেজার দেবব্রত সেন চৌধুরী জনান, আমাদের পাইকারি এবং খুচরা বিক্রি প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আমাদের নিয়মিত ক্রেতা যারা তারাও চা ক্রয় করছে না। শ্রীমঙ্গলে আমাদের প্রায় ৬৫টি চায়ের দোকান আছে। সবারই এক অবস্থা বিরাজ করছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে না পাড়লে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বো।
আনন্দবাজার/এম.কে









