- চলতি বছর বৈশি^ক প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৪ ভাগ
- ২০১৩ সালে হবে ৩.৮ ভাগ
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্ব অর্থনীতির চালিকা শক্তি হলেও ক্রমেই খেই হারিয়ে ফেলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ২০২২ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
তাতে বলা হয়, ২০২২ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। কেননা ২০২০ সালে বিশ্বের প্রায় সব বড় অর্থনীতিরই সংকোচন হয়েছে। সেই দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ২০২১ সালে অনেক দেশই ভালো করেছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের হালনাগাদে এই তথ্য দিয়েছে আইএমএফ।
আইএমএফের পূর্বাভাস, ২০২২ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হলেও ২০২৩ সালে তা আরও কমে দাঁড়াতে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে। আর ২০২১ সাল নিয়ে আইএমএফের পূর্বাভাস, গত বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে গণহারে কোভিড পরীক্ষা, টিকাদান ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে করোনার রাশ টেনে ধরা সম্ভব।
তবে আইএমএফ ধারণা করছে, এ বছর চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমে আসার মধ্য দিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা কিছুটা প্রশমিত হবে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল চ্যালেঞ্জ হলো, মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পালে হাওয়া লাগানো। এই বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর যে দুটি খাতে বেশি জোর দেওয়া উচিত সেগুলো হলো, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা।
প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়া প্রশ্নের জবাব খোঁজার চেষ্টা করে আইএমএফ জানায়, বিশ্ব অর্থনীতির চালিকা শক্তি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। কিন্তু এই দুই পরাশক্তি যেন ক্রমেই খেই হারিয়ে ফেলছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, এরপর তা আরও কমতে থাকবে-২০২২ সালে ৪ দশমিক ৪ ও ২০২৩ সালে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২০ সালে বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে কেবল চীন প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে পারলেও গতি হারাতে শুরু করেছে। ২০২১ সালে তাদের ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এরপর তা কমে ২০২২ সালে ৪ দশমিক ৮ ও ২০২৩ সালে ৫ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।
এ ছাড়া বড় দেশগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৯ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে হতে পারে ৭ দশমিক ১ শতাংশ, এর পরের অর্থবছরে তা দাঁড়াতে পারে ৭ শতাংশে।
মূলত করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইএমএফ। এ কারণে অনেক দেশ ইতিমধ্যে বিধিনিষেধ জারি করেছে। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সংকট চলছেই। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তো আছেই—এ সবকিছু বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
আনন্দবাজার/এম.আর









