উপকূলীয় এলাকা বরগুনার পাথরঘাটায় পান চাষে ব্যাপক রকম সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখানে কৃষি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে উপকূলের চাষিরা।
পানচাষীরা জানান, পান চাষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি কোন সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যেকোনো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের সহায়তা করে। কিন্তু পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চাষিদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না বলে তাদের অভিযাগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে থেকে পাথরঘাটার বারই সম্প্রদায় পান চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পান। পরে আমড়াতলা, কালিপুর, কালিবাড়ী ছোনবুনিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে পান চাষে আগ্রহের সৃষ্টি হয়। পর্যায়ক্রমে ওই এলাকার চাষিরা আস্তে আস্তে পান চাষে ঝুঁকে পড়েন এবং সফলতার মুখও দেখেন।
তবে বর্তমানে চাষিরা জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ না থাকার কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন পান চাষে। তাদের অভিযোগ, সরকার কৃষকদের জন্য সারা দেশে বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ করলেও পাথরঘাটায় পান চাষিদের কপালে একশ গ্রাম সার-বীজ ও এক বোতল কীটনাশকও এখন পর্যন্ত জোটেনি। কালমেঘা ইউপির একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত থাকলেও কোন দিন তাকে পানের ক্ষেতে দেখা যায়নি। তারা আরও জানান, কৃষি উন্নয়নে নিয়োজিত কর্মকর্তারা যদি পান চাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করতেন, তাহলে চাষিরা আগ্রহ হারাত না।
এ বিষয় নিয়ে কথা বললে পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল জানান, পান চাষের ওপর কৃষি বিভাগের পাথরঘাটায় কোনো ধরণের কার্যক্রম নেই।
আনন্দবাজার/শাহী








