- কঠোর জীবন যুদ্ধে উর্মি
- ঘরে নেই বিদুৎ, কমছে আয়
আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। লিঙ্গ সমতার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ দিনটি গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কাজের প্রশংসা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাফল্য উদযাপনের উদ্দেশ্যে নানা আয়োজনে পালিত হয় দিবসটি। সারাবিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেও নারীরা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা পরিবার ও রাষ্ট্রের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করছেন। তেমনই একজন জীবনযোদ্ধা কিশোরী উর্মি বেগম (১৯)। কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের কানেহাত গ্রামে উর্মির বাড়ি। মা-বোন আর নিজের জীবন চালিয়ে নিতে উর্মি একাই লড়াই করে যাচ্ছেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাঁর একমাত্র ভরসা সেলাই মেশিন। একটি বেসরকারি প্রকল্পের দেওয়া সেলাই মেশিনের আয় থেকে উর্মি পরিবারের ভরণ-পোষণ পরিচালনা করেন। নিজের বুক ভরা কষ্ট নিয়ে বিশাল সাহসের সাথে একাই তিনি পরিবারের জন্য শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন উর্মি। উর্মির ছোট ভাই সফিক উদ্দিন ১০ম শ্রেণিতে ও বোন মিম জান্নাত ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।
ভাই-বোনের পড়ালেখা, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার টাকার যোগান দেন নিজের আয় থেকে। ঘরের চারপাশে ভাঙাচুরা টিনের বেড়ায় চলে জীবন সংগ্রাম। আগামীর বর্ষায় এ ঝুপড়ি ঘরে দিনযাপনের চিন্তার ভাঁজ এখন তাদের কপালে। রাতের অন্ধকারে চারপাশে বিদ্যুতের আলো জ্বললেও উর্মির ঘরে জ্বলে মোমবাতি বা কেরোসিনের কুপিবাতি। উর্মির ঘরে বিদ্যুৎ নেই। আর ঘরে বিদ্যুৎ না থাকা তাঁর আয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা। রাতের অন্ধকারে মোমবাতি বা কেরোসিনের কুপিবাতির আলোয় কাজ করেন তিনি। দিনের সূর্যের আলোই তাঁর একমাত্র কাজের উপযোগী সময়। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের অন্ধকার যেন সংসারের আয়ের সবচেয়ে বড় বাধা। ক্রেতারা অনেক কাপড় সেলাই করার জন্য নিয়ে আসেন। কিন্তু অনেক সময় সারাদিন কাজ করেও রাতে কাজের প্রয়োজন হয়। ফলে বিদুৎ না থাকায় কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না। সংসারের অভাবের পাশাপাশি বিদ্যুতের আলোর অভাবটা জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে তাঁর।
ঘরের চারপাশে আলোর ঝলকানিতে সৌরবিদ্যুতের বাতিটাও কপালে জোটে নি। উর্মির ভাই-বোনও কি অন্ধকারে লেখাপড়া করে বেড়ে উঠবে এটাই এখন তাঁর বড় প্রশ্ন। নিজের ভবিষ্যৎ আর বোনের ভবিষ্যৎ আলোকিত করতে চান। মাসে ৬-৭ হাজার টাকা আয় তাঁর একমাত্র সম্বল। উর্মির মা সালেহা বেগম বলেন, সংসারের হাল ধরতে খুবই কষ্ট করে যাচ্ছে সে। লেখাপড়ার পাশাপাশি সেলাই মেশিনের আয় থেকে পরিবারের ভরণ-পোষণ চালিয়ে যাচ্ছে। উর্মি বলেন, আমার পরিবারের জন্য আমি কাজ করি। আমার কষ্ট হলেও আমি হাল ধরে থাকবো। আমার সামান্য আয়েই কোনোরকম পরিবারের ভরণ-পোষণ চলে।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, উর্মিকে সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে। বিদ্যুতের বিষয়ে আবেদন করার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









