পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর মৎস্যবন্দরের শিববাড়িয়া নদী এখন দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীর দু’পাড়ে অব্যাহত দখল সন্ত্রাস এবং বাজার, হোটেল রেস্তোঁরাসহ মৎস্যবন্দরে প্রতিদিনের বর্জ্য যত্র ত্রত নদী পাড়ে ফেলায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে বিনষ্ট করছে পরিবেশ। এছাড়া শিববাড়িয়া নদীর উপর শেখ রাসেল ব্রিজের একাধিক স্প্যান স্থাপনে ক্রমশ: সংকুচিত হয়ে পড়ছে এক সময়ের খড়স্রোতা এ নদী। দু’পাড়ে পলি জমে এ নদীটির জীবন্ত স্বত্তা এখন বিলীনের পথে।
মহিপুর মৎস্যবন্দরের খেয়া পারাপার ঘাটের উভয় পাশেই এখন ময়লার স্তুপ, আর স্তুপ। এতে দুর্গন্ধে নাক চেপে খেয়া পারাপার করছে স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এরপরও প্রতিদিন বর্জ্য ফেলেছে এক শ্রেণির মানুষ। আলীপুর, মহিপুর বন্দরের মাছের আড়ৎ, সবজি বাজার, মাছের বাজার, মুরগী বাজার, গোস্তের দোকান, হোটেল রে¯েঁÍারাসহ আশেপাশে বসবাসকারী বেশ কয়েকটি পরিবারের সকল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খেয়াঘাটের পাশে। ঘাটের এ সিঁড়িতেই প্রতিদিন জবাই করা হচ্ছে অন্তত: ৪/৫টি গরু। রক্তসহ সকল বর্জ্য নদীর পানিতে ফেলা হচ্ছে। খেয়া পারাপারের যাত্রীদের গায়ে এসব ময়লা ছিটকে পড়লেও কেউ এ বিষয়ে কথা বলার নেই। এমনকি ময়লার স্তুপের পাশেই একটি ঘরে মৎস্যবন্দরের ৩৫ জন শ্রমিক বসবাস করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, সমুদ্রগামী জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়, আহরিত মাছ মৎস্যবন্দরে বাজারজাতকরন এবং সমুদ্র যাত্রার প্রস্তুতিতে শিববাড়িয়া নদীর গুরুত্ব রয়েছে। অথচ প্রতিনিয়ত দখল ও দূষনে এ নদীটি এখন
মেরে ফেলা হচ্ছে। বিষাক্ত করে তোলা হচ্ছে এর পানি।
মৎস্যবন্দরের মুদি দোকানী সাগর ও জুনায়েত ফিশের মালিক জাকির বলেন, ব্যবসায়ী সমিতির নিয়োগকৃত ৩জন কর্মচারী বাজারের সকল বর্জ্য এনে এখানে ফেলছে। বাঁধা দিলে তাদের হাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে।
বাজার ইজারাদার জামাল সিকদার ও মজিবর হাওলাদার বলেন, নির্দিষ্ট কোন স্টল না থাকায় কসাইরা বাধ্য হয়ে খেয়াঘাট ব্যবহার করছে। বন্দর শ্রমিক হানিফ খান বলেন, দুর্গন্ধের সঙ্গে মশার উপদ্রবে আর ঘরে থাকা যায়না। সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর এরমধ্যেই থাকতে হচ্ছে। আমাদের মত গরীব শ্রমিকদের এ বিষয়ে প্রতিবাদ করার সক্ষমতা নেই।
মহিপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, বাজারের বর্জ্য এখন আর ফেলা হচ্ছেনা। একসময় ফেলা হত। কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, আলীপুর ও মহিপুর খেয়াঘাটে বর্জ্য ফেলা বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হবে।








