করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশে চলা লকডাউনের কারণে সঙ্কটে রয়েছেন দেশের ফুল চাষিরা। ক্রেতা না থাকায় গত এক মাসে উৎপাদিত প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ফুল মাঠেই নষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে চাষিরা জানিয়েছেন, ব্যবসা বন্ধ থাকায় দেশে প্রায় অর্ধ কোটি ফুলচাষিসহ এর সাথে সম্পৃক্তরা ভয়ানক সঙ্কটে পড়েছেন। করোনাভাইরাসের চেয়ে ক্ষুধার তীব্রতা মারাত্মক হওয়ায় এখন তাদের পক্ষে কাজ ছাড়া একটি দিনও ঘরে থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। এমন সঙ্কটে সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা দেশে প্রায় অর্ধ কোটি ফুলচাষি, ফুল পরিবহন শ্রমিক, যারা ফুল চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত তারা পড়েছে বিপাকে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতা দিবস, চৈত্রসংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখ সামনে রেখে গত এক মাসে ফুলচাষিদের উৎপাদিত প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ফুল মাঠেই নষ্ট হয়েছে। এ অপরিসীম ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ফুলচাষিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ারস সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয় হাজার হেক্টর জমিতে এখন প্রায় ১১ ধরনের ফুল চাষ হচ্ছে। এতে করে দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ফুলের বাজার তৈরি হয়েছে। এসব ফুল বিক্রির জন্য দেশজুড়ে ২০ হাজারের বেশি ছোট-বড় দোকান রয়েছে। এর ভেতরে শুধু রাজধানীতেই রয়েছে সাড়ে ৪০০ পাইকারি ও ৩০০র মতো খুচরা ব্যবসায়ী। যাদের মাধ্যমে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, পয়লা ফালগুন, পয়লা বৈশাখের মতো বিশেষ দিবসে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করা হয়।
কয়েকজন ফুল ব্যবসায়ী জানান, ফুলকে কেন্দ্র করেই তাদের সব কিছু। অথচ ফুল বিক্রি না করতে পারায় তা এখন গাছেই শুকিয়ে যাচ্ছে। গাছ বাঁচিয়ে রাখতে সেসব ফুল ছিঁড়ে ফেলে দিচ্ছেন। কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার ও শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে দৈনিক খরচ পরছে ৫ হাজার টাকার বেশি। কিন্তু বর্তমানে তাদের আয় এসে ঠেকেছে শূন্যের কোঠায়। আগে দৈনিক ৩০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হলেও এখন খরচ দিয়েও বাগান টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা।
আনন্দবাজার/তা.তা









