- বাজার ফাঁকা
নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের সংসার চালানোর দায় নিয়ে টিসিবি’র লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের ভরসা যেন টিসিবি’র ট্রাক। অন্যদিকে এর পুরো প্রভাব পড়েছে বাজারের দোকান গুলোতে। কমেছে বিক্রি। গতকাল সরেজমিনে মৌলভীবাজার শহরের নির্ধারিত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, টিসিবি’র ট্রাকে পণ্য কিনতে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই ক্রেতারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে শরীর ভিজে গেলেও জায়গা হারানোর ভয়ে লাইন থেকে সরছেন না তারা। এত দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মহিলা ও বৃদ্ধরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ট্রাকে চাহিদার চেয়ে পণ্যকম থাকায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় জানা যায়, গত ২০ তারিখ সকাল ১০টায় চাঁদনীঘাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু হয় টিসিবি’র আনুষ্ঠানিক পণ্য বিক্রি। পণ্য হিসেবে রয়েছে চিনি, সয়াবিন তেল, ডাল। টিসিবি’র ট্রাকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১১০ টাকা, চিনি ৫৫ ও ডাল ৬৫ টাকা করে বিক্রি হয় সেখানে। যা বর্তমান দোকানে বিক্রি হচ্ছে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। টিসিবি’র ট্রাকে সে তেল মিলছে ১১০ টাকা লিটার। এতে ২ লিটার তেলে প্রায় ১২০ থেকে ১২৫ টাকা সাশ্রয় হয়। ডাল বাজারে মানভেদে ৯০ টাকা থেকে ১১০ টাকা কেজি। টিসিবি’র ট্রাকে ডাল পাওয়া যায় ৬৫ টাকা কেজি। চিনি বাজারে ৭৬ থেকে ৮০ টাকা কেজি। টিসিবি’র ট্রাকে ৫৫ টাকা কেজি। জনপ্রতি টিসিবি’র ট্রাক থেকে ২ লিটার তেল ২ কেজি ডাল ও ২ কেজি চিনি কিনতে পারেন। এতে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ টাকা সাশ্রয় হয়। আর পিয়াজে সাশ্রয় হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
টিসিবি’র ট্রাক সেলে একসময় কম দামে নিত্যপণ্য কিনতে আসতো নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা পেশায় কেউ ছিল দিনমজুর, রিকশাচালক, গাড়িচালক কিংবা গৃহকর্মী। যদিও এখন সেই লাইনে পণ্য কিনতে দাঁড়াচ্ছেন মধ্যবিত্তরাও।
এই প্রতিবেদককের লাইনে অপেক্ষমাণ কামাল মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আগে কখনও টিসিবি’র লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনেননি। বাজারের দোকানে এসব নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় এখানে আসতে বাধ্য হলাম।
লাভলী বেগম নামে এক গৃহিণীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদককের। তিনি জানান, প্রখর রোদের মাঝে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ঘণ্টা দেড়েক দাঁড়িয়ে থাকার পর তিনি টিসিবি’র পণ্য হাতে পাননি। তাই বাধ্য হয়ে বাজারের দোকান থেকে দাম দিয়ে পণ্য ক্রয় করবেন বলে জানান।
কথা হয় মৌলরভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে বসা টিসিবি’র ট্রাকের দায়িত্বরত মারুফ আহমদের সাথে। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এখানে দাড়ানো ছাড়া মানুষের আর উপায় কি। একজন ২ কেজি’র বেশি নিতে পারে না। যে পরিমাণ পণ্য আমাদের দেয়া হয়, তা দিয়ে লাইনে দাঁড়ানো সবাইকে দেয়া যায় না।









