ঘুরে দাঁড়িয়ে হাজার কোটি লেনদেন
সব ধরনের সূচক উত্থান, বেড়েছে ক্রয়ের চাপ
দর বেড়েছে পাট-সেবায় শতভাগ কোম্পানির
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন বেড়ে হাজার কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। অপরদিকে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এসময় দুই স্টকে শেয়ার ক্রয়ের চাপ বেড়েছে। এদিন দুই স্টকের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। উভয় স্টকে সব ধরনের সূচকেও উত্থান হয়।
সম্প্রতি আগারগাওয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, সবাই ধৈর্য ধরুন, পুঁজিবাজার ভালো হবে। শিবলী রুবাইয়াতের এমন আশ্বাসের ঠিক পরের কার্যদিবস সত্যিই ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। সেই উত্থান পরে মন্দায় রূপে ফিরে এসেছিল। সেখান থেকে ফের উত্থানে। এদিকে আসন্ন অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেট পেশের পর তিন কার্যদিবস পুঁজিবাজার দরপতন হয়। ওই তিন কার্যদিবসে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ে। সেই পতন পর দুই কার্যদিবস ফের উত্থানে ফিরে এসেছে। চোপ বেড়েছে ক্রেতার।
ডিএসইতে এদিন দুই খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। খাতগুলো হলো- পাট ও সেবা আবাসন। এদিন সিমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফান্ড, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, আইটি এবং ওষুধ রসায়ন খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। এদিন বস্ত্র, সিরামিক, বীমা, পেপার, চামড়া এবং টেলিকম খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন ব্যাংক, নন ব্যাংকিং আর্থিক , বিবিধ এং ভ্রমন অবসর খাতের কোম্পানির শেয়ার দর বাড়া-কমার ছন্দ ছিল। শেয়ার দর বাড়া-কমার একই চিত্র ছিল পুঁজিবাজার সিএসইতে।
পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৫১ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং সিএসইর ৫৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। অপরদিকে, ডিএসইর ৩৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং সিএসইর ৩৩ দশমিক ৯০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের হ্রাস-বৃদ্ধি স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার। গত বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৯৪৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮১টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৯৮টির, কমেছে ১৩৫টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৮টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ দশমিক ২২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪২৫ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১৩ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩২৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪০৩ দশমিক ২৫ পয়েন্টে।
ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ৬৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে শাইনপুকুর সিরামিকস ৫২ কোটি ৩১ লাখ টাকা, আরএকে সিরামিক ৩৬ কোটি ৫ লাখ টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, মুন্ন ফেব্রিক্স ৩৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ৩৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ২১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, ইউনিক হোটেল ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ১৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং এইচআর টেক্সটাইল ১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
সিএসইতে এদিন (বৃহস্পতিবার) লেনদেন হয়েছে ৮৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। গত বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৪২ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৫টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১৬৫টির, কমেছে ১০০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩০টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২৫ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৯৮ দশমিক ২৪ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১১ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৭০ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৭৪ দশমিক ৮১ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৯ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৮৪ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৫৭৮ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৩৩০ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৯৭ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে।
সিএসইতে ব্যাংক ইস্টার্ন ব্যাংক কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন সিএসইতে ইস্টার্ন ব্যাংক ৬২ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১ কোটি ৭১ রাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, শাইনপুকুর ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ৮৬ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ৮১ লাখ টাকা, মুন্নু ফেব্রিক্স ৭৯ লাখ টাকা, আরএকে সিরামিক ৭৭ লাখ টাকা এবং সাইফ পাওয়ারটেক ৭৭ লাখ শেয়ার কেনাবেচা হয়।









