সাপ্তাহিক লেনদেন--
- ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাতে নেতিবাচক প্রভাব
- অর্ধেকে নেমেছে লেনদেন, সূচকে পতন
- ৭৫ ভাগ কোম্পানির দর পতন, উত্থান ১৫
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বারশ থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেন বর্তমানে ছয়শত কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। পাশাপাশি পাঁচ কার্যদিবসে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে আড়াই শত পয়েন্ট। এই ধরনের লেনদেনসহ সূচক কমে যাওয়াকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
ইউক্রেনে হামলার বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে। যুদ্ধ (রাশিয়া ও ইউক্রেন) শুরুর পর দুই কার্যদিবসে (বৃহস্পতিবার ও রবিবার) পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ডিএসইএক্স ২৭২ পয়েন্ট কমেছে। অপরদিকে সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই কমেছে ৮১৩ পয়েন্ট। যুদ্ধের প্রভাবে সূচক পতন অযৌক্তিকতা বলে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। একই প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন জানান, যুদ্ধ হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না।
এসব আশার বাণীতে গত দুই কার্যদিবস (সোমবার ও মঙ্গলবার) সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছিল ৭৭ পয়েন্ট। সিএএসপিআই বেড়েছিল ২১৯ পয়েন্ট। কিন্তু সূচকের সেই বৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলো না দুই স্টক। উত্থানের পর গতকাল বুধবার দুই স্টকে ফের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসইএক্স কমেছে ৫৩ পয়েন্ট এবং সিএএসপিআই ১২০ পয়েন্ট। এসময় ডিএসইর লেনদেন কমে অধের্কে নেমে এসেছে।
ডিএসইতে গতকাল বুধবার লেনদেন হয়েছে ৬৫৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। বুধবারের লেনদেন গত দুই মাস ৫ দিন বা ৪৮ কার্যদিবসের মধ্যে সবনিম্ন ছিল। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৭৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। গত সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৭৩০ কোটি ১ লাখ টাকা। চলতি বছরের শুরু থেকেই ডিএসইর লেনদেন বারশ থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার ঘরে ছিল। চলতি বছরের বেশকিছু দিন লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। হঠাৎ করেই গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে চলে এসেছে। এরপর বুধবার সেই লেনদেন ৬ শত কোটি টাকার ঘরে চলে এসছে। এসময় কমেছে সিএসইর লেনদেনও। এই ধরনের লেনদেন কমে যাওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি বিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসই এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বুধবার সব ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন উভয় স্টকের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমে। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন দুই স্টকের লেনদেন পরিমাণ কমেছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজারে (দুই স্টক) এদিন ৭৫ দশমিক ৮০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৭৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সিএসইর ৭৫ দশমিক ৬২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। এদিন পুঁজিবাজারে ১৫ দশমিক ৪২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং সিএসইর ১৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়।
এদিন সিমেন্ট, সিরামিক এবং টেলিকম খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এদিন ব্যাংক, নন ব্যাংক আর্থিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, আইটি, বিমা, পাট, বিবিধ, পেপার, ওযুধ রসায়ন, সেবা আবাসন, চামড়া এবং বস্ত্র খাতের কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদিন ওযুধ রসায়ন খাতের ৮৪ শতাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৮৩ শতাংশ, পেপার খাতের ৮৩ শতাংশ, চামড়া খাতের ৮৩ শতাংশ, নন ব্যাংক আর্থিক খাতের ৭৮ শতাংশ, জ্বালানি শক্তি খাতের ৭৮ শতাংশ, সেবা আবাসন খাতের ৭৫ শতাংশ, বস্ত্র খাতের ৭৪ শতাংশ, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৭১ শতাংশ, বিবিধ খাতের ৭১ শতাংশ, পাট খাতের ৬৭ শতাংশ, বিমা খাতের ৬৬ শতাংশ, ব্যাংক খাতের ৬৪ শতাংশ এবং আইটি খাতের ৫৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। অপরদিকে সিএসইতে ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে ডিএসইতে বেক্সিমকো এবং সিএসইতে ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার স্থান পেয়েছে। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ১১০ কোটি ২৬ লাখ ৭২ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ২২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা, ইয়াকিন পলিমার ১৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ১৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ড্রাগন সোয়েটার ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ৮ কোটি ২০ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংক ৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
এছাড়া এদিন সিএসইতে ইউনিয়ন ব্যাংকে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫০ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা, কেয়া কসমেটিকস ১ কোটি ২১ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, রবি ৮২ লাখ টাকা, আরডি ফুড ৭৬ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ৭৬ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৬১ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ৫৬ লাখ টাকা এবং জিএসপি ফাইন্যান্স ৫৪ লাখ টাকা টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
ডিএসইতে এদিন লেনদেন হওয়া ৩৭৯টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৫৮টির, কমেছে ২৮৮টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৩টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৯৯ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১০ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪৭০ দশমিক ৫০ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৪৩ দশমিক ৪২ পয়েন্টে।
অপরদিকে এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮৩টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪৪টির, কমেছে ২১৪টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২৪টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২০ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫৯৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, সিএসসিএক্স সূচক ৭২ দশমিক ৫০ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৯ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৫১ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৯২৬ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৭৬৩ দশমিক ২৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২২০ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে।









