‘ফিরতে হবে সরিষায়’
সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
দৈনিক আনন্দবাজারে ‘ফিরতে হবে সরিষায়’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গত ১৭ মে। যেখানে ভোজ্যতেলের সংকট নিরসনে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে গুরুত্বারোপ করা হয়। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন সরিষার তেলের উৎপাদন বাড়ানোর কথা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
গতকাল বুধবার দুপুরে দ্রব্যমূল্য ও বাজার মনিটরিং সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির দ্বিতীয় সভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রী সয়াবিন তেল, গম ও লবণ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সয়াবিন তেলের নির্ভরশীলতা কমাতে দেশীয় যোগানের রাইস ব্রান ও সরিষার তেলের উৎপাদন বাড়ানো চিন্তা করা হচ্ছে। কেননা আমাদের বার্ষিক চাহিদার ৯০ ভাগ ভোজ্যতেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করতে হয়। পাম তেল ও সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় যোগানের রাইস ব্রান ও সরিষার তেল উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, এই সংকট সরকার এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মিলেমিশে সমাধান করতে হবে।
টিপ মুনশি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারে সয়াবিনের দাম বেড়েছে। এখন আলোচনায় এসেছে এর বিকল্প কী করা যেতে পারে। রাইস ব্র্যান অয়েল নিয়ে ভাবছি। এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ধানের কুড়া পাওয়া যায় তা থেকে সাত লাখ টন তেল উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে ৬০ হাজার টন রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন হয় যার কিছু অংশ দেশে বিক্রি হয়, কিছু রপ্তানি হয়। এখন অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন রাইস ব্রান্ড উৎপাদন হয়। এটা খুব সহজেই ৭ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে রাইস ব্রানের সুফল সম্পর্কে প্রচার করতে হবে। ডাক্তারদের এ নিয়ে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. আব্দুল মালেক জানান, সরিষার মধ্যে যে পুষ্টি সেটি কিন্তু সয়াবিনে নেই। তারপরও মানুষ সয়াবিনে ঝুঁকে পড়ার কারণ হচ্ছে আমেরিকার একতরফা প্রচার। তারা আশির দশকে কম দামে, এমনকি বিনামূল্যে সয়াবিন তেল রপ্তানি করতে থাকে। সস্তা দেখে বাংলাদেশের মানুষ সরিষা ছেড়ে বেছে নেয় সয়াবিন। অবস্থা এখন এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সরিষার তেলের ব্যবহারই ভুলে গেছে মানুষ।








