সম্প্রতি ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কস বাংলাদেশের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের কাছ থেকে দু’টি জাহাজ ক্রয় করেছে। জে এস ডব্লিউ ‘সিংহগড়’ ও ‘লোহগড়’ নামে দু’টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এখন কলকাতা বন্দরে নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কসের কাছে জাহাজ দু’টি হস্তান্তর করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। পাশাপাশি বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, পোশাক শিল্পের পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সবদিক থেকেই গুছিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পোন্নয়ন এখন সকলের কাছে দৃশ্যমান হচ্ছে। তাই এই ছোট্ট বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে একটা বিস্ময়।
টিপু মুনশি জানান, "এক সময় বাংলাদেশকে বলা হয়েছিল ‘বটমলেস বাস্কেট’। আরও বলা হয়েছিল- বাংলাদেশ টিকবে না। সেই বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে বিস্ময়"। আমাদের এখন টার্গেট ডাবল ডিজিট গ্রোথ। তিনি আরও জানান, আগামী বছর বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী, একই বছর আমাদের বাণিজ্যিক লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আশা করছি, এ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাপিয়ে আমরা আমাদের উন্নয়ন গতিশীল করতে পারব।
এদিকে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালে ভারতের জিন্দাল স্টিল ওয়ার্কস প্রায় ২শ’ কোটি টাকায় ৪টি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ‘জেএসডব্লিউ রাইগাড়’ ও ‘জেএসডব্লিউ প্রতাপগড়’ নামে দু’টি জাহাজ হস্তান্তরও করা হয়। প্রতিটি জাহাজের বিক্রয় মূল্য ছিল ৫০ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ৪টি জাহাজের মোট মূল্য ছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
জানা যায়, জেএসডব্লিউ সিংহগড় ও লোহগড় নামের জাহাজ দু’টি ৮ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কার্গো জাহাজ। জাহাজগুলো প্রায় ১ হাজার ৩৩০ কিলোওয়াট ও ৯০০ আরপিএম-এর দুটি ইয়ানমার মেরিন ইঞ্জিন দ্বারা চালিত। জাহাজগুলো শতভাগ লোড অবস্থায় সর্বোচ্চ ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম।
আনন্দবাজার/শাহী









