আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত মৌসুমের তুলনায় আখের ফলন বেড়েছে বগুড়ার ধুনটে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৩০০ মেট্রিকটন আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হেক্টর জমি থেকে আখ কাটা হয়েছে ১ হাজার ১০০ টন। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন আখ চাষিরা। প্রত্যাশিত দাম পাওয়ায় হাসির জোয়ার তাদের মাঝে।
পোকামাকড়-রোগবালাইয়ের আক্রমণ না থাকায় ভালো ফলন হওয়ায় চাষিরা জমি থেকে আখ বাজারে বিক্রি করছেন। বাজারে কিছুটা দাম চড়া হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে আখ থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা খুশি উভয়েই। তাই ধুম পড়েছে বাজারে আখ বেচাকেনায়।
আখচাষি বাদশা মন্ডল বলেন, গত বছর ২ বিঘা জমিতে আখচাষে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে বিক্রি করেছিলেন ১ লাখ টাকা। তবে এবছর একই জমিতে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারণে একটু খরচ বেশি হলেও আখের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করবেন বলে প্রত্যাশা তার।
এ অঞ্চলের আখচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত বছর থেকে ধুনটে অনাবাদি জমিতে আখ চাষ শুরু করেছেন এলাকার অনেকেই। ধান চাষে হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও অর্থ বেশি লাগার কারণে অনেক কৃষকই ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। সেই সঙ্গে তারা ধানের বিকল্প ফসল হিসেবে আখসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের নিমগাছী গ্রামের আখচাষি লালমিয়া সাকিদার(৫০) আনন্দবাজারকে জানান, চলতি বছর এক বিঘা জমিতে আখ চাষে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ আখ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন। বাড়তি টাকা আয়, উৎপাদনে ঝুঁকি কম, অধিক ফসল উৎপাদন করে লাভবান হওয়ার সম্ভবনা থাকায় কৃষকদের ব্যক্তিগত চাষেই আখ উৎপাদন বেড়েছে। তবে উপজেলায় সরকারিভাবে আখ চাষের কোনো উদ্যোগ নেই।
ধুনট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, দিন দিন আখ চাষে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে যে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে লক্ষ্যমাত্রা দিন দিন অতিক্রম করবে। উপজেলায় এ বছর আখ চাষের ভালো ফলন হয়েছে। আখ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন আখচাষিরা। আমাদের কৃষি অফিসাররা মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।









