বাংলা বছরের আষাঢ়-শ্রাবণ মাস মানেই তো বর্ষাকাল। আর আষাঢ় মাস হলো রোপা আমন ধান রোপণের উপযুক্ত সময়। এদিকে শ্রাবণ মাসের চতুর্থ দিন আজ। আষাঢ় মাস শেষে শ্রাবণ মাস চলে এসেছে তারপরেও দেখা মিলছে না কাঙ্খিত বৃষ্টির। মূলত এ কারণেই বিলম্ব হচ্ছে গাজীপুরের কৃষকদের রোপা আমন ধানের চারা রোপণে।
এদিকে অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরতাপে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বীজতলায় রোপা আমনের চারা। এমন পরিস্থিতির অবসান না হলে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে রোপা আমনের চাষ। বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় তীব্র গরম অনূভুত হচ্ছে। গাজীপুরের মানুষের জন জীবন স্থবির হয়ে পড়ছে প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণে। একটানা ১৬ দিন ধরে চলছে এ অবস্থা। প্রচন্ড রোদ আর অনাবৃষ্টিতে নাভিশ^াস উঠেছে কৃষকসহ শ্রমজীবী মানুষের। আর এত মারাত্মক প্রভাব পড়ছে আমন ধানের বীজতলার চারা টিকিয়ে রাখাসহ আমন ধান রোপণে।
তবে কেউ কেউ আমনের বীজ রোপণ করলেও বৃষ্টির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অন্যদিকে অনেক কৃষকই ধান রোপন করতে না পেরে পড়েছেন চরম বিপাকে। তবে সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে পানি দিয়ে আমন রোপনের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি অফিস।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এ বছর জেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৫৬ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১০ হাজার ৫১০ হেক্টর, কাপাসিয়ায় ১১ হাজার ৪৯০ হেক্টর, শ্রীপুরে ১৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর, কালিয়াকৈরে ৪ হাজার ৫১০ হেক্টর এবং কালীগঞ্জে ২ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে। সেই সাথে এসব জমিতে রোপণের জন্য ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে কাপাসিয়া উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের কৃষক মো: ইমাম উদ্দিন জানান, আগুনি (আমন) ধান লাগানোর (রোপনের) জন্য আমাদের একমাত্র ভরসা হচ্ছে বৃষ্টি। এ ধান রোপণ করা হয় সম্পূর্ণ বৃষ্টির পানি দিয়ে। আষাঢ় মাসে একবার বৃষ্টি হয়েছিলো। তারপর থেকে আর বৃষ্টিই নেই। যে কারণে মাঠ-ঘাটের কোন জমিতেই এখন আর পানি নেই। রোপা আমন রোপনের উপযুক্ত সময় পাড় হয়ে যাচ্ছে কিন্তু রোপণ করতে পারছিনা। সেই সাথে পানির অভাবে বীজতলার চারাগুলো শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। এখন শুধুমাত্র অপেক্ষা বৃষ্টির জন্য। চড়া মূল্যের ডিজেল দিয়ে আমন চাষ করা সম্ভব না বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমন চাষে বিঘ্ন ঘটলে আমার মতো প্রান্তিক চাষিরা চরম ক্ষতির সমুক্ষিণ হবে। অন্যদিকে সেলো মেশিন (সেচ যন্ত্র) দিয়ে রোপা আমন ধান রোপণ করলে যে পরিমাণ ব্যয় হবে তাতে কোন ভাবেই লাভবান হওয়া যাবেনা।
কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার বসাক জানান, কৃষকদের চাষের জন্য আমন ধানের তিনটি জাত রয়েছে। জাত তিনটি হলো- আগাম জাত, নাভি জাত আর নিয়মিত জাত। এরমধ্যে আগাম জাত লাগানোর উপযুক্ত সময় আষাঢ় মাস, যে সময়টা ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মৌসুমী যে জাত রয়েছে তা লাগানোর সঠিক সময় শ্রাবণ মাসের শুরু থেকে মাঝামাঝি। কিন্তু এ বছর আমরা বৃষ্টির দেখা পাচ্ছিনা। কৃষকরা মূলত আমন ধান লাগাতে বৃষ্টির উপরই নির্ভর করে থাকে। যেহেতু সঠিক সময়ে বৃষ্টির দেখা নেই, তাই আমরা কৃষকদের খাল এবং নদী-নালার পানি ব্যবহার করতে বলি। পাশাপাশি সেলো মেশিন, ডিপ টিউবওয়েল এবং সাবমার্সিবল ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, বৃষ্টি আসুক বা না আসুক মৌসুমের সময় চাষাবাদ করতে না পারলে ফলন কমে যাবে। তাই উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে আমন ধান রোপনের পরামর্শ দিচ্ছি।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা সম্পূরক পদ্ধতিতে চাষাবাদের উপর পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের যে বিএডিসি টিম আছে তারা সঠিক সময়ে চাষাবাদের জন্য পানির ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।









