মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার। অপরিশোধিত তেলের দামে তিন মাস আগে যে ধস নেমেছিল, গত কয়েকদিনে সে তুলনায় অনেকটাই ভালো অবস্থানে রয়েছে তেলের বাজার। আর তেলের সেই মূল্যহ্রাসের সবচেয়ে বড় সুবিধাটি নিয়েছে চীন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ক্রুড অয়েলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেলে ৪৫ ডলার। এবং এক পর্যায়ে যার দাম উঠেছিল ৪৪ দশমিক ৮৯ ডলার, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় দ্বিগুণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেলের এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে গত সপ্তাহে ওপেক প্লাস দেশগুলোর উৎপাদন সীমিতকরণে ঐতিহাসিক সমঝোতার প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি করোনার প্রভাব কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি আবারও সচল হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য গতি ফিরে পেয়েছে। এতে আস্থা ফিরে পেয়েছে ব্যবসায়ীরা।
ক্রুড অয়েল রপ্তানি বাজারকে চাঙ্গা রেখেছে বলে মনে করছেন দুবাইয়ের স্টারফুয়েলসের পরিচালক ম্যাট স্ট্যানলি। তিনি বলেন, চীন যতটা সম্ভব তেল কেনায় পরিশোধনের মাত্রা সন্তোষজনক দেখা যাচ্ছে।
করোনার প্রকোপে গত কয়েক মাসে তেলের দাম ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। আর এতে সবচেয়ে বড় সুযোগটা নিয়েছে চীন। এ সময়ে যথেষ্ট পরিমাণ তেলের মজুত রাখছে তারা। সামুদ্রিক পথে সম্প্রতি চীনে তেল রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দৈনিক প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল। কিন্তু চীনের অন্যতম তেল সরবরাহকারী সৌদি আরামকো চাহিদা বাড়ার কারণে দামও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অর্থনৈতিক পরামর্শক সিকিং আলফার বিশ্লেষকরা জানিয়েছে, করোনা মহামারীর পর বৈশ্বিক তেল বাজারে পুনরায় ভারসাম্য তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। বৈশ্বিক উৎপাদকরা অতিরিক্ত সরবরাহের চরম সংকট কাটাতে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
আনন্দবাজার/টি এস পি









