নায়করাজ খ্যাত বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি আব্দুর রাজ্জাকের ৭৮ তম জন্মদিন আজ। ১৯৬৬ সালে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ চলচ্চিত্রের একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর অভিষেক ঘটে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে। এর আগে থেকেই তিনি কলকাতা থিয়েটারের সাথে যুক্ত ছিলেন।
১৯৫৯ সালে ভারতের মুম্বাইয়ের ফিল্মালয়তে সিনেমার ওপর পড়াশুনা ও ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন রাজ্জাক। এরপর কলকাতায় ফিরে নতুন উদ্যমে অভিনয় শুরু করেন তবে ১৯৬৪ সালে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কবলে পড়ে রাজ্জাক তার পরিবার-পরিজন সহ ভগ্ন স্বপ নিয়ে ঢাকায় চলে আসতে বাধ্য হন।
তবে ঢাকায় এসে তিনি নতুন করে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজে নেমে পড়েন। কাজ করেন 'উজালা' সিনেমার সহকারী পরিচালক হিসেবে। এরপর নির্মাতা জহির রায়হান পরিচালিত 'বেহুলা' সিনেমায় লখিন্দরের চরিত্রে অভিনয় করেন প্রয়াত এই অভিনেতা। এর মধ্য দিয়েই নায়ক হিসেবে প্রথম পরিচয় হয় রাজ্জাকের।
আরও পড়ুন : ভালবাসা দিবসে সারিকার অ্যান অ্যাফেয়ার
এরপর একের পর এক সিনেমায় তার অভিনয়ে মুগ্ধ হন এ দেশের সিনেমার দর্শক। রাজ্জাক অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে নীল আকাশের নীচে, ময়নামতি, মধু মিলন, পিচ ঢালা পথ, যে আগুনে পুড়ি, জীবন থেকে নেয়া , রংবাজ, বেঈমান, আলোর মিছিল, অশিক্ষিত, বাদী থেকে বেগম ইত্যাদি। প্রায় ৩০০ সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন তিনি।
নায়ক হিসেবে রাজ্জাক-সুচন্দা, রাজ্জাক-কবরী ও রাজ্জাক-ববিতার এবং রাজ্জাক-শাবানার অনেক সিনেমা দর্শক হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। যা রাজ্জাককে ঢালিউডের নায়করাজ উপাধিতে ভূষিত করেছে। বাংলা চলচ্চিত্র পত্রিকা ‘চিত্রালী’র সম্পাদক আহমদ জামান চৌধুরী তাকে এই উপাধি দিয়েছিলেন।
নায়করাজের জন্মদিন ঘিরে চলচ্চিত্রাঙ্গনসহ শোবিজের নানা অঙ্গনের মানুষ তাকে স্মরণ করবেন শ্রদ্ধায়। ব্যক্তিগতভাবে তো বটেই নানা সাংস্কৃতিক-চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠনগুলোও ভালোবাসায় সিক্ত করবেন প্রয়াত প্রিয় এই নায়ককে। দেশের রেডিও-টেলিভিশন ও সংবাদপত্রগুলোতেও চোখে পড়বে নানা আয়োজন।
আনন্দবাজার/তাঅ









