নওগাঁর ধামইরহাটে পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় জমিগুলো প্রায় দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে থাকে। ফলে ওই এলাকার চাষিরা বর্ষা মৌসুমে কোনো ফসলই উৎপাদন করতে পারেন না।
জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে কয়েকদফা বন্যা, বৃষ্টিপাত এবং জলাবদ্ধতার কারণে ৭৪ হেক্টর জমির ধান ও তিন হেক্টর জমির রবিশস্য চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষকদের দাবি, নদীর বাঁধ নির্মাণের পর থেকে পানি নিষ্কাশনের তেমন ভালো ব্যবস্থা না থাকায় তাদের ফসল প্রতি বছরে এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাঁধে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে ওই সকল জমির ফসল রক্ষা পাবে এমনটা মনে করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
তবে শত কষ্টের পরও ওইসকল জমিতে কৃষকরা ধান, পেঁয়াজ, পটল, রসুন, আলু, করলার চারা রোপণ করে থাকলেও একটু বৃষ্টি বা বর্ষার পানিতে তাদের চারাগুলো পচে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টিপাতে জমিগুলোতে পানি জমে থাকায় রোপণ করা ধানের চারাগুলো পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক পর্যায়ের সব কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উপজেলায় ১৯ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও টানা বর্ষণে উপজেলার নানা ইউনিয়নে ১২৩ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষক দেলোয়ার হোসেন সরদার জানান, আমি ১০ বিঘা সম্পত্তি অনেক আগে কিনেছি। কিন্তু মহিষগাড়ি বাঁধ নির্মাণের পর থেকে আমার সম্পূর্ণ জমির ফসল বর্ষা মৌসুম এলেই পানিতে একেবারে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় ধরে ফসল পানির নিচে থাকায় সব জমির ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। চলতি বছরও আমার ১০ বিঘা জমির ফসল পানিতে ডুবে থাকায় পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁ জেলা শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান খান জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য লিখিতভাবে ফর্মুলা অনুসরণ করলে আমরা ব্যাপারটি দেখব। এছাড়া আমার এ বিষয়ে জানা ছিল না। আমি আমার লোকজন ওই এলাকায় পাঠিয়ে দেব। ব্যাপারটি কি পর্যায়ে আছে তা দেখার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









