বিশ্বের অনেক দেশ এর মত বাংলাদেশও করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাগৃহগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বর্তমানে যে প্রেক্ষাগৃহগুলো বন্ধ রয়েছে, তার বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনও পাননি বেতন বা ভাতা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতারা এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের ওপর মহলে কথা বলার চেষ্টা করছেন। কারণ এর আগে অতীতে বিভিন্ন সংকটে সরকারের কাছ থেকে তারা বিভিন্ন সহায়তা পেয়েছেন। দেশের এ বিরূপ পরিস্থিতিতে এখন সরকারই তাদের একমাত্র ভরসার স্থল।
চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের এ অবস্থায় অনেক হল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বেশির ভাগ হল কর্তৃপক্ষই কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধুমিতা হলের এক কর্মচারী জানান, তাদের হলে প্তরায় ৭০-৮০ জন কর্মচারী কাজ করেন। হল বন্ধ হওয়ার পর থেকে সবার বেতন বন্ধ রয়েছে। হল কর্তৃপক্ষ বা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোনো সহায়তাও পাচ্ছেন না বলে তিনি জানান।
মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা মার্চ-এপ্রিলের বেতন এখনো দিতে পারিনি। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিতে পেরেছি। গত কয়েক মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা ভর্তুকি দিয়ে হল চালিয়েছি। বতমান যে পরিস্থিতি তাতে আসন্ন ঈদেও হল চালানো সম্ভব হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজধানীর রায়েরবাজারে অবস্থিত মুক্তি সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক শহিদুল্লাহ বলেন, ‘হল বন্ধের প্রায় এক মাস হতে চলল। আগের মাসের বেতনই দেয়া হয়নি। কাউকে কাউকে সামান্য বেতন দিতে সমর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। আমাদের হয়তো না খেয়েই মরতে হবে।’
ঢাকার মিরপুরের পূরবী হলের ম্যানেজার পরেশ জানান, তাদের হলে মোট ৩২ জন কর্মচারী কাজ করেন। এ হলের কর্মচারীরাও বেতন পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বেতন পাইনি। আসলে ব্যবসা না থাকলে মালিকের পক্ষে বেতন দেয়াও সম্ভব হয় না। এমনিতেই হলের ব্যবসা মন্দা।’
বলাকা হলের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত শাহিন টকিজকে জানান, তারা এখন পর্যন্ত তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিয়ে যাচ্ছেন। তবে কতদি দিতে পারব বলতে পারছিনা।
ঢাকার বাইরের হলগুলোর অবস্থাও একই। বেতন-ভাতার বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় রংপুরের শাপলা হলের ম্যানেজার কামাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হল বন্ধ হয়েছে মার্চের ১৮ তারিখ। মার্চ মাসের বেতন দেয়া সম্ভব হয়নি। ছবি না চললে বেতন দেয়া সম্ভব না। তাছাড়া এখন যা অবস্থা, তাতে হল খুললেও মানুষ আসবে বলে আমার মনে হয় না।’ এ হলে প্রায় ২২ জন কর্মচারী ফুলটাইম দায়িত্ব পালন করেন।
চট্টগ্রামের প্যালেস প্রেক্ষাগৃহে কাজ করেন প্রায় ১৫ জন, সুগন্ধা হলে ১২ জন। তাদেরও বেতন হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন প্রেক্ষাগৃহ দুটির ম্যানেজার সাইফ হোসেন। এমন পরিস্থিতিতে এ শিল্প ধ্বংস হওয়ার পথে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
আনন্দবাজার/শহক









