দমকা হাওয়াসহ শিলাবৃষ্টিতে শেরপুরে বোরো আবাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলাসদরসহ ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার হাজারো কৃষক। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে জেলায় দমকা হাওয়াসহ শিলাবৃষ্টিতে বোরো আবাদ, শাক-সবজি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ধানকাটা ও ঘরে তোলার মৌসুমের শুরুর দিকে এ দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে সহস্রাধিক কৃষক বেকায়দায় পড়েছেন। নিচু এলাকায় বৃষ্টিতে ধান গাছ নুয়ে ও শিলের আঘাতে ঝরে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রীবরদী উপজেলার মাটিয়াকুড়া, গিলাগাছা, কুরুয়া, ধাতুয়া, শেখদি ও কুড়িকাহনিয়াসহ কয়েকটি এলাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, করোনার কারণে এমনিতেই কয়েক বছর ধরে নানা কারণে ধান আবাদে লোকসান লেগেই আছে। এরমধ্যে শিলাবৃষ্টিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ সম্ভব না।
সদর উপজেলার চরশেরপুরের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, আমার এক একর জমির ধান ভোরে শিল পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। খুব দুশ্চিন্তায় আছি। শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের কৃষক মফিল উদ্দিন বলেন, ঋণ করে চার একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। এক রাতেই সব শেষ আমার। একই গ্রামের কৃষক জুলহাস আলী বলেন, আমি ১০ কাঠা জমিতে আবাদ করি। এ থেকে পুরো বছরের খাবার আসতো। ভোরে শিলের আঘাতে সব ধান পড়ে গেছে। খড়িয়ার উলুকান্দা গ্রামের কৃষক সেলিম মিয়ার ১০ কাঠা, জয়নাল আবেদীনের দেড় একর, মোশাররফ হোসেনের ১৫ কাঠা, সাগর আলীর ২ একর, মুহাম্মদ আলীর এক একর জমির ধান পড়ে গেছে। লংগর পাড়া গ্রামের কৃষক চাঁন মিয়া বলেন, সেহরির পরপরই শিল পড়ে আমার এক একর জমির সব ধান পড়ে গেছে। এখন বউ বাচ্চা নিয়ে কি খাবো।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের সহযোগিতার দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের জন্য সরকার কিছু একটা ব্যবস্থা না করলে চলা মুশকিল হয়ে পড়বে।
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, ভোর রাতের শিলাবৃষ্টিতে শেরপুরে বোরো আবাদের ক্ষতি হয়েছে। জেলায় প্রায় একশ’ হেক্টর জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।









