- হতাশায় বোরো চাষিরা
চলতি মৌসুমে কালবৈশাখীর কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই বোরো ধান গোলায় তুলেছেন হবিগঞ্জের বোরো চাষিরা। তবুও যেন মুখে হাসি নেই তাদের। খুচরা বাজারে ধানের তেমন মূল্য না থাকায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। স্থানীয় হাট বাজারে খুচরা প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭শ টাকায়। এতে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না।
এদিকে, বোরো মৌসুম শেষেও সরকারিভাবে ধান কেনা পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় দেনা পরিশোধ করতে পারছেন না কৃষকরা। ধান গোলায় তুলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। উৎপাদিত ধান গোলায় রাখবেন না বিক্রি করবেন এ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক কৃষক।
স্থাানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ধান রোপনের পর থেকে সার-ওষুধ-কীটনাশক ব্যবহারে প্রতি ক্ষেরে খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। তবে এতে ধান হয়েেেছ ১৫ থেকে ১৬ মণ। খুচরা বাজারে প্রতি মণ ৭শ’ টাকায় বিক্রি করা হলে খরচের টাকাই পাওয়া যাবে না।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর সুলতানশী গ্রামের কৃষক শাহ আলম (ইজ্জত আলী) জানান, এবার বোরো মৌসুমে কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই গোলায় ধান তুলেছেন তিনি। তবে বাজারে ধানের মূল্য কম থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। তিনি জানান, বাজারে পাইকাররা যে দামে ধান কিনছেন তাতে তার উৎপাদন খরচই উঠবে না।
তবে এবার চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জে ১ লাখ ২০ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬২ শতাংশ ও হাওরের ৯৯ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
তাছাড়া সরকার কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৮০ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাই থোয়াই মারমা জানান, ঈদের ছুটির কারণে ধান সংগ্রহ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে শিগগিরই ধান কেনা শুরু করা হবে। এবার হবিগঞ্জ থেকে ১৬ হাজার ২০৬ টন ধান ক্রয় করবে সরকার।









