পাঁচ থেকে ছয় ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। দুর থেকে দেখে যে কারো মনে হবে সবুজরঙ্গের ছাতা দিয়ে সু-সজ্জিত করে রাখা হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। তবে কাছে এলে পাল্টে যাবে ধারনা। সবুজরঙ্গের পাতা আর থোকায় থোকায় ধরে আছে পরিপক্ব লাল আপেলের মতো দেখতে মিষ্টি স্বাদের কুল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এগুলো কাশ্মীরি আপেল কুল হিসেবে পরিচিত। নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের চিত্র এটি।
চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জাতের কুলসংগ্রহ ও বাজারজাত করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জাতের কুল। শুরুতেই বাজারদর ভালো হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন চাষিরা। স্বল্পখরচে অল্পদিনে অধিক লাভ হওয়ায় বরইচাষে আগ্রহ বেড়েছে এ জেলার চাষিদের।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা শামছুল ওয়াদুদ জানান, চলতি বছরে এ জেলায় মোট ৩৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির কুল। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে সাপাহার উপজেলায়। এছাড়াও মান্দা, পোড়শা, নিয়ামতপুর ও ধামইরহাট উপজেলায় কুলের ব্যাপক চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-কাশ্মীরি, বলসুন্দরী, বাহুকুল, আপেলকুল। তবে বেশিরভাগ চাষিরা বলসুন্দরী ও আপেলকুল চাষ করছেন। এ মৌসুমে জেলায় এবার ২ হাজার ৯৪৫ টন কুল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নওগাঁ জেলায় দিন দিন আমের পাশাপাশি কুলচাষেও ঝুকে পড়ছেন চাষিরা। আমচাষ ব্যাপক লাভজনক। তবে আমগাছ রোপনের পর প্রায় দু বছর পর আম পাওয়া যায়। তবে কুলচাষে সময় বেশি লাগেনা। রোপনের এক বছরের মধ্যেই কুলগাছে ফল আসে। স্বল্প সময়ে উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এটি একটি লাভজনক চাষ বটে।
চাষিরা জানান, জেলায় বলসুন্দরী জাতের কুলের বাজার চাহিদা বেশ ভালো। খেতে সুস্বাদু হওয়ার ফলে বেশিরভাগ চাষিরা বলসুন্দরী জাতের কুল চাষ করছেন। কাশ্মীরি জাতের কুল নির্ধারিত সময়ের পরে একটু দেরিতে উত্তোলন করতে হয়। এতে বাজারে মৌসুমের প্রথমে এবং শেষে দর ভালো পাওয়া যায় যার জন্য এ দুই জাতের কুলচাষ বেশি হয়েছে।
জেলার সাপাহার উপজেলার বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক এর স্বত্ত্বাধিকারি কুলচাষি সোহেল রানা বলেন, তিন বছর পূর্বে তিনি ১৫ বিঘা জমিতে ৩ হাজার চারা রোপনের মাধ্যমে কুলচাষ শুরু করেন। এক একটি গাছ থেকে এ বছর ১ থেকে দেড় মণ কুল উৎপাদন হবে। জেলার আবহাওয়া ও মাটির গুণগত মান ভালো হওয়ায় ফলনও ভালো হয়। মাটির গুনগত মান ভালো হওয়ায় অন্যান জেলার তুলনায় এ জেলার কুলের স্বাদ বেশি হওয়ায় চাহিদাও ব্যাপক রয়েছে। হারভেষ্টিংয়ের পরে পাইকাররা জমিতে এসেই নিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বছরে বাজারে বলসুন্দরী জাতের কুল প্রতিমণ বিক্রয় হচ্ছে ২৩শ থেকে ২৫ শ’ টাকা পর্যন্ত। এরকম বাজার স্থিতিশীল থাকলে কুলচাষে অনেক লাভবান হওয়া সম্ভব।
অপরদিকে কুলচাষি ইমরান হোসেন বলেন, তিনি একজন সফল চাষি। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কুলবাগান দেখে এসে কুলের বাগান করার প্রতি উদ্বুদ্ধ হন। যার ফলস্বরূপ বিভিন্ন এলাকায় তিনি ৬০ বিঘায় কুলের বাগান করেছেন। কুলের বাগানে তেমন কোনো পরিচর্যা করতে হয়না। প্রথমে গাছ লাগানো এবং জমি তৈরির পর কীটনাশক ও যৎসামান্য পরিচর্যা ছাড়া তেমন কোনো পরিচর্যা করতে হয়না। এতে খরচ একেবারেই কম হওয়ায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় কুলের অধিক লাভজনক চাষ বলেও জানান তিনি।
আনন্দবাজার/এম.আর









