- রমজানে ঊর্ধ্বমুখী সব ধরণের পণ্যের বাজার
- বিপাকে উত্তরের নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা
রমজানের শুরু থেকেই নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রংপুরসহ উত্তরের বাজারে। কমবেশি সব পণ্যেরই দাম বেড়েছে। দুই-একটি পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকলেও রমজানে ইফতারের প্রধান উপকরণ ছোলা, চিনি, আটা, ময়দাসহ মাছ, মাংস বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের দাম কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে পেঁয়াজের দামও। ডিম, কাঁচামরিচ, সজনে ডাটার দাম কমলেও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে বেগুন ও শসার দর। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে চালের বাজার। সবমিলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।
সরেজমিনে রংপুর নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল এখন ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেল ৭৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ছিল ১৬৮ ও পাঁচ লিটারের বোতল ছিল ৭৮০ টাকা। তবে খোলা সয়াবিন গত সপ্তাহের মতই ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি খুচরা বাজারে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৮০ থেকে ২৯০ এবং লেয়ার ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে দেশি মুরগির। গত সপ্তাহে ৪৪০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪৬০ থেকে ৪৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাংসের দামও উর্ধমুখী। গরুর মাংস ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি টমেটো ২০ থেকে ২৫ টাকা ও গাজর ২৫ টাকা, মটরশুঁটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ২০ টাকার চিকন বেগুনের দাম বেড়ে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, গোল বেগুন ৩০ টাকার জায়গায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা, সীম ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, লেবু প্রতিহালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচের কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, শুকনা মরিচের কেজি ৩৫০ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি ২০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, কাঁচা কলার হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, সজনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, প্রতি কেজি মিষ্টি আলু ও মিষ্টি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩০ ও ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আদা ৬০ থেকে ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, রসুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মুরগির ডিমের হালি খুচরা বাজারে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রংপুর সিটি বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, গত সপ্তাহের মতই ব্রয়লার ও পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগির আমদানি কমে যাওয়ায় কেজিপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সবজি বিক্রেতা ইউনুস আলী জানান, বাজারে কিছু সবজির আমদানি বাড়ায় দাম কমেছে। তবে রমজান উপলক্ষে শসা ও বেগুনের চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে।
এছাড়া খোলা চিনির কেজি ৮০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ৮৫ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা, মসুর ডাল মাঝারি ১০০ টাকা, চিকন ১৩০ টাকা, আটা প্যাকেট ৪০ টাকা ও খোলা ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা এবং ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে চালের দামে তেমন একটা হেরফের নেই। স্বর্ণা (মোটা) ৪৮ টাকা কেজি, ব্রিধান-২৯ ৫৮ টাকা, ব্রিধান-২৮ ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৬৮ টাকা এবং নাজিরশাইল ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন বাজারে। মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, অপরিবর্তিত রয়েছে সব ধরণের মাছের দর। রুই মাছ (আকার ভেদে) ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মৃগেল ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, বড় চিংড়ি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, কাতল ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, বাটা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সরপুঁটি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মসলার বাজারও আগের চেয়ে বেশি। সিটি বাজারের মসলা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, মসলার মধ্যে জিরার দাম একটু বেশি। এছাড়া সব মসলার দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে ভোক্তাদের। সিটি বাজারের ক্রেতা হনুমানতলা এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ‘নিত্যপণ্যের সবকিছুরই দাম বেড়েছে। এমনি সময়ের চেয়ে বরং রমজান মাসেই পণ্যের দাস বাড়ানো হয়েছে। কারো কোন কথাতেই কর্ণপাত করছেন না ব্যবসায়ীরা।’ সিও বাজারের ক্রেতা পান্ডারদিঘী এলাকার শাহিনা বেগম বলেন, বাজার দর নিয়ন্ত্রণে কারো কোন পদক্ষেপও দেখছি না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, বাজার দর নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। জেলার আট উপজেলায় প্রায় প্রতিদিনই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। জেল-জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক ও সচেতন করা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।









