খাদিজা বেগম। বয়স ষাটের কোঠায়। দুই সন্তানের জননী। স্বামী হারিয়েছেন প্রায় আট বছর আগে। স্বামী হারালেও মনের জোর আর ইচ্ছে শক্তি হারাননি তিনি। তাইতো স্বামীর রেখে যাওয়া কসমেটিক্সের দোকান করে ছেলেদের লেখা পড়ার খরচ জুগিয়ে শিক্ষিত করেয়েছেন। নিজের প্রচেষ্টায় এখন গড়ে তুলেছেন কফি বাগান ও রঙিন মাছের হ্যাচারী। যা থেকে বছরে আয় করেছেন লাখ লাখ টাকা।
বলছি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের সু-নগর গ্রামের খাদিজা বেগমের কথা। খাদিজা বেগম যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বলেছেন এ প্রতিবেদককে। খাদিজার স্বামী নজরুল ইসলাম ২০১৪ সালে হঠাৎ মারা যাওয়ার পরে দিশেহারা হয়ে পরলেও মনোবল হারাননি তিনি।
বাড়ির কাজ শেষে দুই সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে নিজেই যেতেন স্বামীর রেখে যাওয়া কৈমারী বাজারে কসমেটিক্সের দোকানে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে ২০১৯ সালে বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত পাঁচ শতক জমিতে দুইশত কফির চারা লাগিয়ে লাভবান হওয়ায় এখন পাঁচ বিঘা জমিতে ১৫ হাজার কফি গাছ লাগিয়েছেন। প্রথমে লাগানো এরোবিকা গাছে কফি ফল উৎপাদন হলেও পরে লাগানো রোবাষ্টার গাছে আগামী বছর থেকে ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।
একটি গাছে এক থেকে দুই কেজি পর্যন্ত কফি ফল পাওয়া যায়। প্রতি কেজি ফলের দাম দুই হাজার টাকা। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা এ ফল কিনতে আসেন। অন্যদিকে গত বছর থেকে রঙিন মাছের হ্যাচারি দিয়েছেন খাদিজা বেগম। এখানে মাছ রেণু করে অনেক টাকা আয় করেন। জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের বাটার ফ্লাই, সিল্কি, কমেট, কৈকার, প্লাটি, ছকটেল, গাপটি, আঞ্জেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির নানা রঙের মাছ পাওয়া যায় এ হ্যাচারিতে। একটি রঙিন পরিপূর্ণ মাছ দুই কেজি ওজনের হয়। বিদেশে যার মূল্য এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা। এদের জীবন কাল প্রায় পনের বছর। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ মাসে এ মাছগুলো রেণু করা হয়। উদ্যোক্তরা নিজের ইচ্ছে মত মাছের গায়ের রঙ তৈরি করতে পারেন। রঙিন মাছগুলো ইঞ্চি দরে বিক্রি হয়। সাত ইঞ্চি একটি মাছের দাম পাঁচশত টাকার উপরে। রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা রঙিন মাছ কিনতে আসেন।
খাদিজা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট ও পরিশ্রম করে নিজ প্রচেষ্টায় এ বাগান ও হ্যাচারি করেছি। আমার এখানে এখন অনেক শ্রমিক কাজ করে। ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম করলে জীবনে অনেক কিছুই করা সম্ভব। যার প্রমান আমি নিজেই। এখন আমার বড় ছেলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভালো চাকরি ও ছোট ছেলে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না জানান, খাদিজা নিজ উদ্বেগে দীর্ঘদিন ধরে কফি চাষ করছেন। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করি।








