সাতক্ষীরায় মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠে দোলখাচ্ছে সরিষা ফুল। কুয়াশা ভেজা হলুদ ফুল দুলছে মাঠে মাঠে। শীতের রাতে কুয়াশায় ভেজা সরিষা গাছ রোদে ঝিকমিক করছে। সবমিলে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগদ্ধকর দৃশ্যের।
সরেজমিনে জানা যায়, খরচ কম ও লাভ বেশি পাওয়ায় সরিষা চাষে ঝুঁকছেন জেলার চাষিরা। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও কিছুটা সংশয়ও রয়েছে। অসময়ের বৃষ্টি হওয়াতে উৎপাদনে কিছুটা ঘাটতি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ভালো ফলনের আশায় জেলার কৃষকরা রাতদিন পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকের পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠে মাঠে ছুটে চলেছেন।
এদিকে চলতি রবিশস্য মৌসুমে অনাকাঙ্খিত বৃষ্টিতে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। উৎপাদিত ফসলে কৃষক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে এমনটাই বলছেন কর্মকর্তারা। তবে মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমি ডুবে যায় আবার কোনো কোনো জমিতে এখনো আদ্রতা কমেনি। যার কারণে পরিমিত ফলন না হওয়ার কথা বলছেন কৃষক।
চলতি মৌসুমে জেলার ৭টি উপজেলায় ১২৫০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে হেক্টর প্রতি ১.২ মেট্্িরক টন উৎপাদনের সম্ভবনা রয়েছে। আবাদ হওয়া সরিষার মধ্যে টরি-৭, বারি সরিষা-১৪ ও ১৫, বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা- ৯ জাতের সরিষা আবাদ বেশি হয়েছে।
সরিষা চাষি জামাল উদ্দীন জানান, ৬ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় ফলন কম হওয়ার আশংঙ্কা করছি। তবে সরিষা চাষ শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় একটু চিন্তায় আছি। তবে চলতি মৌসুমে ফলন কম হওয়ায় সরিষার দর বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
সরিষা চাষি সৈয়দ আলী জানান, সরিষা চাষের শুরুতে জমিতে ঠিকমত জো করতে পারিনি। বীজ রোপনের পর অতিবৃষ্টিতে চারা ঠিকমত বেড়ে উঠতে পারেনি। তবে যা ফলন হয়েছে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ঠিক থাকলে খরচ কাটিয়ে উঠতে পারবো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম জানান, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় সরিষার ফলন একটু ব্যহত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে চলতি বছর সরিষা চাষের বিগত বছরের মত উৎপাদন না হলেও উৎপাদিত ফলন থেকে কৃষক বাড়তি মুনাফা পাবে বলেও আশা করছি। তবে বিগত বছরের তুলনায় সরিষার দাম বাড়তে পারে।
আনন্দবাজার/এজে









