সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এমনটাই বলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম ঘ্রেবেইয়েসাস। এই ক্ষেত্রে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি মুম্বাইয়ের ধারাবী উদাহরণ হতে পারে। শুক্রবার তিনি জেনেভা থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন।
ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রবার পর্যন্ত বিশ্বে সংক্রমিত হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৪ জন। আর প্রাণ গেছে ৫ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৮ জনের।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, গত দেড় মাসে সারাবিশ্বে করোনার সংক্রমণ তার আগের সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। কিন্তু বিশ্বে এমন একাধিক জায়গার উদাহরণ রয়েছে, যেখানে করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ার পরও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, ইতালি, স্পেন ও দক্ষিণ কোরিয়া এমনই দেশ, যারা কৌশলী পন্থা অবলম্বন করে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। এমনকি এক্ষেত্রে সফল মুম্বাইয়ের ঘিঞ্জি বস্তি ধারাবীও।
ধারাবীকে বলা হয় এশিয়ার সবচেয়ে বড় ও ঘিঞ্জি বস্তি। মুম্বাই শহরের মধ্যে এই বস্তিতে শহরের মধ্যে আড়াই বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে। একটি আরেকটির সঙ্গে লাগানো ৪৭ হাজার বস্তিঘর। অথচ এমন ঘিঞ্জি বস্তিতে করোনার সংক্রমণ ঘটলেও মারা গেছেন একজন মাত্র মানুষ। যেখানে প্রতিদিন মুম্বাই শহরেই আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, সেখানে বস্তির ভেতরে মোট আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৩৩৫ জন। এখানে শেষ নয়, সেখানে গত ৫ এপ্রিল এর পর আর কেও করোনা আক্রান্ত হয়নি।
এখন সবার মনে প্রশ্ন একটাই। এমন বস্তিতে যেখানে এত মানুষ এত কম জাযগায় বসবাস করে সেখানে কীভাবে মহামারির নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলো?
বাস্তবতা মেনে নিয়েই ধারাবী বস্তিতে করোনা মোকাবেলার কর্মকৌশল সাজিয়েছে মুম্বাইয়ের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনার সংক্রমণের শুরু থেকে ধারাবী বস্তির প্রায় প্রতিটির দরজায় গিয়েছেন। তারা সবার শরীরের তাপমাত্রা ও অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করেছেন। শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকা মানুষ গুলোর জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় ফিভার ক্লিনিক। এবং যাদের উপসর্গ করোনার লক্ষণের সাথে মিলেছে, তাদের দ্রুত স্থানান্তর করা হয় কোয়ারেন্টিন সেন্টার বানানো স্কুল ও স্পোর্টস ক্লাবে। যার ফলে মহামারির হটস্পট থেকে ধারাবী আজ করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের উদাহরণ হয়েছে।
এ বিষয়টিকেই তুলে ধরে ডব্লিউএইচও প্রধান জানান, যেসব জায়গায় করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি, সেখানে বেশি মাত্রায় টেস্ট করতে হবে। জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে জোরালো পরীক্ষা, শনাক্ত ও কোয়ারেন্টিন ও যারা অসুস্থ তাদের চিকিৎসার মাধ্যমে এই মহামারি সংক্রমণের শিকল ভাঙা ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আনন্দবাজার/এস.কে









