পৃথিবীতে নানা উপজাতি তৈরি হয়েছে মানুষ জাতির ভাগ হতে হতে। নানা ধরনের উপজাতির বাস একেক দেশে। বিশেষ করে আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলোতে উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ উপজাতিদের ভাষা, আচার, সংস্কৃতি, খাদ্যাভাসের রয়েছে অনেক অমিল। কারো সঙ্গেই কারো মিল পাবেন না। তাদের মধ্যে রয়েছে নানা কুসংস্কার, রয়েছে ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নামে অমানবিক আচার ব্যবস্থা। যার অনেক আধুনিক প্রযুক্তির যুগে বিশ্ববাসী জেনেছে। এসব জেনে বারবার হয়তো শিউরে উঠেছেন।
তেমনই এক জাতির কথা জানাবো আজ। যারা অমানবিক আর নিষ্ঠুর কিছু আচার পালন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য আর দুঃখের একটি হলো কোনো মেয়ে যুবতী হলেই তাকে পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়। তাও আবার সমাজের বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে।
শুধু যে শারীরিক সম্পর্কই করতে হবে তা নয়। এর জন্য ওই ব্যক্তিকে পারিশ্রমিকও দিতে হয় সেই মেয়ের পরিবারকে। এসব ভাবতেই গা শিউরে উঠছে নিশ্চয়! তবে একবার ভাবুন তো সেখানকার মানুষদের কথা। না চাইলেও যুগের পর যুগ ধরে এসব মেনে চলতে হচ্ছে। বলছি সাউথ-ইস্ট আফ্রিকার দেশ মালাউই-এর দক্ষিণের গ্রামগুলোর কথা।
ওই এলাকার মানুষেরা আজব এই রীতি মেনে চলে। কোনো মেয়ে ঋতুবতী হলেই তাকে অন্য পুরুষের সঙ্গে শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হতে হবে পিতার বয়সী বৃদ্ধ লোকের সঙ্গে। এখানকার সমাজের কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি আছেন। যারাই এই কাজগুলো করে থাকেন। তাদের স্থানীয় ভাষায় ডাকা হয় হায়না বলে। দিনের পর দিন সেখানকার মেয়েরা এদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে। শুধু যে নিজের সম্ভ্রম হারাচ্ছে তা নয়, ক্ষতির মুখে পড়ছে আর্থিক দিক থেকেও।
অন্যদিকে এই হায়নার দল প্রাপ্তবয়স্ক ও মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিগুলো এই প্রথার সুযোগ নিয়ে লাগাতার কুমারী মেয়েদের লাঞ্ছনা করে চলেছে, একইসঙ্গে ঘরে তুলছে পয়সাও। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, এই প্রথা চলে আসছে হাজারো বছর ধরে। বর্তমানে এসব হায়নার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন যৌনরোগ এমনকি এইডসও।
এই বর্বর প্রথাকে বলা হয়, মেয়েদের ‘শুচিকরণ’। এই প্রথার মধ্য দিয়ে শুদ্ধ হয় কিশোরীরা এমনটাই ধারণা এই গোষ্ঠীর মানুষদের। কোনো মেয়ের প্রথমবার ঋতুস্রাব হওয়ার পর শিশু থেকে তার যৌবনে উপনীত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে পরপর তিনদিন মেয়েটিকে হায়নার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে হয়। কোনো মেয়ে এই জঘন্য কাজে রাজি না হলে ধরে নেয়া হয়, ওই মেয়েটির পরিবার বা গোষ্ঠী বা গ্রামের জন্য মহামারী অথবা ভয়ংকর কোনো পরিণাম অপেক্ষা করছে।
আনন্দবাজার/এস.কে









