সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে ত্বীন চাষে সফল্য পেয়েছেন এক তরুণ উদ্যোক্তা। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত এ ফল গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ হলেও সাতক্ষীরায় এটি নতুন ফসল হিসেবে দেখছেন কৃষিবিভাগ। ছোট আকারে শুরু করলেও ভালো ফলন হওয়ার আশায় এখন ত্বীন বাগানে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চক মোহাম্মাদালীপুর গ্রামের খন্দকর রিয়াসাদ আলীর ছেলে আকবর আলী। তিনি ২০২১ সালে ময়মনসিংহ থেকে ত্বীন ফলের গাছ এনে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। এ চাষ দেখাশোনার জন্য একজন কর্মীও নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।
প্রথমে স্থানীয়রা ধারণা করেছিল মরুভূমির এ গাছ বাংলাদেশের মাটিতে টিকবে কি না। তবে সকলের শঙ্কা উড়িয়ে ছোট ছোট গাছগুলো বড় হতে শুরু করেছে। কিছু গাছে ফলও ধরেছে।
পবিত্র কুরআনে যে ত্বীনের কথা উল্লেখ রয়েছে সেটির বৈজ্ঞানিক নাম ঋরপঁং পধৎরপধ। ফাইকাস দলভুক্ত ৮০০ প্রজাতির মধ্যে এ ত্বীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশিয় কাকডুমুর থেকে বড়। স্বাদে সুমিষ্ট, অত্যধিক সুস্বাদু এবং রসালো। এক কথায়, স্বাদে, ঘ্রাণে এবং পুষ্টিগুণে সেরা একটি ফলের নাম ত্বীন। তীন গাছ তিন থেকে দশ মিটার পর্যন্ত বড় হয়। ঘন এবং খসখসে পাতায় ভরপুর থাকে। তাছাড়া সেই ত্বীন গাছ যার নামে পবিত্র কোরআনের একটি সূরায় নাযিল হয়েছে।
ত্বীনের বাংলা অর্থ আঞ্জীর বা ডুমুর। মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় এ ফলের উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে করা হয়। সৌদি, কুয়েত, মিসরসহ আফগানিস্থান থেকে পর্তুগাল পর্যন্ত এ ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। ত্বীনে আছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-বি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার, আইরন ইত্যাদি।
ত্বীন চাষের উদ্যোক্তা আকবর আলী জানান, প্রথমে সবাই বিভিন্ন ভয় দেখাচ্ছিল। তারপরেও এ চাষ শুরু করি। ধীরে ধীরে এ ভয় কাটতে থাকে। আমি শুরুতে ময়মনসিংহ থেকে ৯০০ গাছের চারা সংগ্রহ করে দেড়বিঘা জমিতে চাষ শুরু করি। চারাপ্রতি প্রায় ৫০০ টাকা পড়েছে। বিদেশি ফল হিসেবে এটির বেশ চাহিদা রয়েছে। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সব গাছে ফল এসে যাবে। তখন বাগানটি দেখতে আরো ভালো লাগবে। এর পাশাপশি আমি পেয়ারা, লটকন, ড্রাগন, বারোমাসি আমসহ বিভিন্ন ফলের আবাদ করেছি। আগামিতে আরো অনেক ফলের আবাদ করার ইচ্ছা রয়েছে।
দেবহাটা উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মাদ তিতুমীর জানান, সাতক্ষীরার দেবহাটায় প্রথম ত্বীন গাছের চাষ হচ্ছে। ফলটি গুণেমানে ভালো হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া ত্বীন বর্তমানে সম্ভবনাময় চাষ হিসাবে দেখা দিতে পারে। তাই এ চাষের মাধ্যমে অনেক বেকার তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।
আনন্দবাজার/এম.আর









