বোরো চাষ---
পৌষের তীব্র শীত উপেক্ষা করে নীলফামারীর ডিমলায় বোরো ধান চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা। জমিপ্রস্তুত, চারা উত্তোলন ও রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এদিকে সম্প্রতি জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ায় বোরো চাষে খরচ বেড়েছে। এতে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষির কপালে।
সরেজমিনে জানা যায়, আমন ধান ঘরে তোলা সম্পন্ন করে আগাম বোরো ধানের চারা জমিতে রোপণ করছেন তারা। চারা রোপণের পাশাপাশি বীজতলা ও জমিও তৈরি করছেন। তবে তেলের দর বাড়ায় বেশির ভাগ কৃষক পড়েছেন বিপাকে। গত বছরের তুলনায় এবছর পানিসেচ, হালচাষ ও সার-বীজ ও কীটনাশকে বিঘা প্রতি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা খরচ পড়ছে। ডিজেল ও বীজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। তবে কৃষিবিভাগ বলছে, কৃষকদের সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১১ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছর ৪ হাজার ৩০০ কৃষকের মাঝে সরকারের হাইব্রিড ও উফশী জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। চাষিরা এরই মধ্যে আবাদ শুরু করেছেন।
গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন যাবত বোরো ধানের চাষ করে আসছেন তিনি। চলতি বছরও দুই একর জমিতে বোরো ধান চাষ করছেন। প্রতিবিঘা (৩০শতাংশ) জমিতে বোরো ধান চাষে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে প্রায় ২২ মণ হারে ফলন পাওয়া যায়। তবে যারা অন্যের জমি ইজারা নিয়ে চাষ করেন তাদের প্রতিবিঘায় অতিরিক্ত আরো ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ ও হালচাষে খরচ বেড়েছে। তবে ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় আছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, বোরো ধান চাষ করার জন্য আমরা কৃষকদের সহযোগিতা ও উৎসাহ দিচ্ছি। এ উপজেলায় আগের তুলনায় বোরো চাষ অনেক বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার খরচ কিছুটা বাড়লেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না।
আনন্দবাজার/এম.আর









