ছোট আকারের মাটির পাত্র। আর তাতে ঠাঁই দাড়িয়ে আছে ৩৫ বছর বয়সের বট গাছ। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। ছোট মাটির পাত্রে শুধু বটই নয়, দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বনসাই রয়েছে। এদের মধ্যে কোনটায় বাঁশ আবার কোনটায় রয়েছে চন্দন গাছ। বয়স বেশি হলেও এগুলো আকারে ছোট। হাতে বহন করা যায়। নানান আকৃতির এসব বনসাই শোভা পাচ্ছে কুমিল্লা নগরীর শুভপুর এলাকার সহোদরা ভবনের ছাদে।
সহোদরা ভবনের মালিক বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক হাসান ফিরোজ। শখের বসেই তিনি বনসাই বাগান তৈরি করেন। তার ধারণা দেশের মধ্যে তার সংগ্রহে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির বনসাই রয়েছে।
সহোদরা ভবনের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ছাদজুড়ে রয়েছে বনসাই। মাটি ও প্লাস্টিকের পাত্রে ছোট অথচ বেশি বয়সের গাছগুলোর নানান আকৃতি দেয়া হয়েছে। কোন বনসাই নাচের স্টাইলে কোনটা আবার দৌড়বিদের আকৃতিতে দাঁড়িয়ে আছে। কোনটা আবার হৃদয় আকৃতির। সাপের মত নিজেকে পেচিয়ে ফণাতোলা সাপের আকৃতির বনসাইও রয়েছে। গুনে গুনে দেখা যায়, শত প্রজাতির অন্তত ২৩০ টি বনসাই রয়েছে সহোদরার ছাদে। এ যেন বনসাইয়ের জাদুঘর। বিশেষ করে ফাইকাস, চায়না বট, পাকুর, কাঁঠালি বট, অশ্বত, লোভ্যাবট, কামিনি বট, কালিবট, নিম, অডিনিয়াম, জুনিপারাস, ঝাউ, পাস্তা, শিমুল, জেড বট, খেঁজুর, কামিনি বট, বাঁশ, কৃষ্ণ চন্দন, তেঁতুল বট, লালবট, সালঙ্কান, জাম বট, অর্জুন বট, সাইকাছ উল্লেখযোগ্য।
বনসাইয়ের বিষয়ে কথা হয় হাসান ফিরোজের সঙ্গে। তিনি জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে বনসাই নিয়ে কাজ শুরু করেন। তবে, বাংলাদেশ টেলিভিশনে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার মাথায় বনসাইয়ের শখ চেপে বসে। তারপর থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে তার বনসাই সংগ্রহ শুরু হয়। এগুলোর সেবাযত্নের কোন কমতি রাখেননি৷
হাসান ফিরোজ আরো বলেন, যদি কেউ বনসাই করতে চায় সেক্ষেত্রে অবশ্যই গাছ বাছাইকে প্রাধান্য দিতে হবে। সেক্ষেত্রে দীর্ঘজীবী ও ছোট পাতার গাছ হলে ভালো। পাশাপাশি বনসাইয়ের জন্য সেবাযত্ন করার মানসিকা থাকতে হবে। যারা শৈল্পিক রুচির মানুষ তাদের জন্য বলবো বনসাইয়ের জন্য ধৈয্য প্রয়োজন। হাসান ফিরোজ আরো বলেন চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি ও চট্টগ্রাম ক্লাবে তার একক বনসাই প্রদর্শনী হয়েছে। সেখানে কিছু বনসাই বিক্রি হয়েছে।
বনসাই নিয়ে কি পরিকল্পনা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে হাসান ফিরোজ বলেন, আমার বয়স হয়েছে। আমার এই বনসাইগুলো টিকিয়ে রাখতে চাই। যদি কেউ উদ্যােগী হয় আমি খুশি হবো।









