- ডিএসইতে ১৪৫০ কোটি টাকা, সিএসইতে ৬৪ কোটি
- ডিএসইর শীর্ষে শিপিং কর্পোরেশন, সিএসইর ইস্টার্ন ব্যাংক
- ডিএসইতে ৪৭ ভাগ দর উত্থান, সিএসইতে ৪০ ভাগ
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন দুই স্টকের লেনদেন পরিমাণ বেড়েছে। এদিন বেড়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুই স্টকের এদিন (মঙ্গলবার) ৪৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৪৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং সিএসইর ৪৭ দশমিক ১৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। এদিন উভয় স্টকের ৪০ দশমিক ৫৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৩৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং সিএসইর ৪১ দশমিক ৯১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিন ডিএসইতে ব্যাংক, নন ব্যাংকিং ফাইন্যান্স, সিমেন্ট, সিরামিক, জ্বালানি শক্তি, পেপার, টেলিকম এবং ভ্রমন অবসর খাতের অধিকাংশ খাতের কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদের মধ্যে ব্যাংক খাতের ৩৩টির মধ্যে ২১টি, নন ব্যাংকিং ফাইন্যান্স খাতের ২৩টির মধ্যে ২১টি, সিমেন্ট খাতের ৭টির মধ্যে ৪টি, সিরামিক খাতের ৫টির মধ্যে ৩টি, জ্বালানি শক্তি খাতের ২৩টির মধ্যে ১৯টি, পেপার খাতের ৬টির মধ্যে ৫টি, টেলিকম খাতের ৩টির মধ্যে ২টি এবং ভ্রমণ অবসর খাতের ৪টির মধ্যে ৩টি কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদিন বিমা, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইটি খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদের মধ্যে বিমা খাতের ৫৩টির মধ্যে ৩৪টি, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৫৩টির মধ্যে ৩৪টি এবং আইটি খাতের ১১টির মধ্যে ৭টি কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিরগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের হ্রাস-বৃদ্ধি স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৪৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস সোমবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪২৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৭৬টির, কমেছে ১৪৯টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৫৫টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭২ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে।
এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২ দশমিক ৬০ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৬১০ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৫১১ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে। টাকার অংকে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো, ফরচুন সুজ, বে-লিজিং, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, কুইন সাইর্থ, ডেল্টা লাইফ, ওরিয়ন ফার্মা, একমি ল্যাব।
অপর পুঁজিবাজারে মঙ্গলবার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৪২ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৩টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১২৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৩টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭১৪ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১ দশমিক ১১ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৮ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ২৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৩ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫২৮ দশমিক ৮০ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৬২৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে, ১২ হাজার ৪৪৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২৮৩ দশমিক ৯০ পয়েন্টে। টাকার অংকে সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- ইস্টার্ন ব্যাংক, লিন্ডে বিডি, প্রিমিয়ার ব্যাংক, বেক্সিমকো, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ইউনিক হোটেল, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, খুলনা পাওয়ার, ইয়াকিন পলিমার, এইচআর টেক্সটাইল।
আনন্দবাজার/শহক









