- ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে
বিঘাপ্রতি পেঁয়াজ উৎপাদন হবে ৫০-৬০ মণ। বিঘাপ্রতি খরচ ৭০-৮০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে পেঁয়াজের মণ কম পক্ষে দুই হাজারের বেশি টাকায় থাকতে হবে। তাহলে কিছুটা লাভ হবে
দেশে মোট পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী জেলার অবস্থান তৃতীয়। প্রতিবছর এ মৌসুমে জেলায় মুড়িকাটা ও হালি এ দু’জাতের পেঁয়াজ চাষাবাদ হয়ে থাকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তাই পেঁয়াজের ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। এদিকে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতসহ সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান ও ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন চাষিরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পেঁয়াজ চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে নানাবিধ পরামর্শ।
রাজবাড়ী কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় দুই ধরনের পেঁয়াজ আবাদ হয়ে থাকে। মুড়িকাটা ও হালি পেঁয়াজ। গত বছর জেলায় ৩১ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়। এর মধ্যে হালি পেঁয়াজ ২৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ২ হাজার টন। চলতি মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এবার রাজবাড়ী সদর, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়েছে।
সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণ করেছেন চাষিরা। কেউ নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ ওষুধ ছিটাচ্ছেন। অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে রোপণ করা মুড়িকাটা পেঁয়াজ ঘরে উঠবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পেঁয়াজের ভালো ফলন ও দাম পাওয়ার প্রত্যশা চাষিদের।
উড়াকান্দা এলাকার কৃষক সাহেব আলী জানান, সব খরচসহ মুড়িকাটা পেঁয়াজ ঘরে ওঠানো পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি পেঁয়াজ উৎপাদন হবে ৫০ থেকে ৬০ মণ।
আরেক কৃষক লুৎফর মিয়া বলেন, পেঁয়াজের মণ কম পক্ষে দুই হাজারের বেশি টাকায় থাকতে হবে। তাহলে কিছুটা লাভ হবে। আর কৃষক যখন পেঁয়াজ ঘরে তুলবেন তখন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে। এতেই কৃষক বাঁচবে।
আরেক কৃষক জয়নাল জানান, গত বছর পেঁয়াজে ভালো ফলন পেয়েছি। এবারও ভালো ফলন হবে আশা করছি। তবে শঙ্কায় আছি পেঁয়াজ ঘরে তোলার সময় ভারতের পেঁয়াজ আসলে ন্যায্য দাম পাবো না। সে জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম শহীদ নূর আকবর জানান, সারাদেশের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে কৃষকদের মাঝে সহজ শর্তে ঋণও প্রদান করা হচ্ছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









