- উৎপাদন হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকার আমন
- ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে হতাশা
- তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় ফলন ভালো
রংপুর কৃষি অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। যার মধ্যে ২০০ কোটি টাকার বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ কমান্ড এলাকার ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। তবে ধানের ভালো ফলন হলেও বাজারে আশানুরুপ দাম না পাওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া ডিভিশন সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, শুস্ক মৌসুমে নদীতে উজানের পানি কম পাওয়ার পরেও চলতি আমন ধান আবাদের সময় তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের কৃষকদের তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। সেচ কমান্ড এলাকার কৃষকরা গড়ে প্রতিবিঘা জমিতে ১৭ থেকে ২০ মণ করে ধান ঘরে তুলছেন। সেচ প্রকল্পের আওতায় তারা সেচের পানি দিয়ে গত এক দশক ধরে বাম্পার ফলন ফলিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। খরিপ-২ মৌসুমে সেচ প্রদানের লক্ষ্যে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকার সেচে নীলফামারী সদর, জলঢাকা, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর, পার্বতিপুর, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৩০ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সেচ প্রদান করা সম্ভব হয় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। সেচসুবিধা পায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষক। আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২৫ লাখ টন।
এছাড়া দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ কমান্ড এলাকার সেচের পানিতে গত বোরো মৌসুমে ওইসব এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করে কৃষক। এতে তারা বিদ্যুৎ ও ডিজেল সাশ্রয় করতে পেরেছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৗলা এমন হিসেব তুলে ধরে জানান, বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রে একজন কৃষক এক হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করলে তার সেচ খরচ হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। সেখানে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রে খরচ হয় ১৪ হাজার। আর তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকার সেচে এক হেক্টরে কৃষকের খরচ পড়ে মাত্র এক হাজার ২০০ টাকা। অপরদিকে উৎপাদনের হিসেবে দেখা যায়, বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত সেচে এক হেক্টর জমিতে ধান মেলে ৫ দশমিক ৫ টন। অথচ তিস্তার সেচে প্রতিহেক্টরে ধান উৎপাদন হচ্ছে ৬ টন। সার্বিক বিবেচনায় দেখা যায়, ৩৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তিস্তার সেচে ধান উৎপাদন করেছে প্রায় ২০০ কোটি টাকার।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় সেচ প্রকল্পের পানি বেশি থাকার কারণে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারে ধানের আশানুরুপ দাম মিলছে না।
এদিকে রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলা নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবন্ধায় চলতি মৌসুমে ৬ লাখ ১৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ লাখ ১৯ হাজার ২৩১ মেট্রিক টন চাল। যার গড় বাজার মূল্য প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, অনুকুল আবহাওয়া থাকায় চলতি বছর বেড়েছে আমনের এলাকা, বৃদ্ধি পেয়েছে ফলন। সঠিক বাজার মূল্য দিতে জেলা প্রশাসন, খাদ্যবিভাগ, ভোক্তা অধিকারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আলোচনা করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর








