সুস্বাদু আনারস উৎপাদনে দেশজুড়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। আনারসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মধুপুরে সারাবছর আনারসের পাশাপাশি সব ধরনের ফলের সমাহার ঘটে। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে কলা, আম, লিচু, পেঁপে, পেয়ারা অন্যতম। মধুপুর গড়ের উর্বর মাটি যেন ফল-ফলাদি চাষের জন্য এক অনন্য উদাহরণ। অনুকূল আবহাওয়া ও জলবায়ু থাকার কারণে এখানে আনারস চাষের পাশাপাশি চাষিরা মাল্টা চাষ শুরু করেছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বাংলাদেশে এ ফলগুলোর চাহিদা রয়েছে এবং দিন দিন এর চাষ বেড়ে চলছে। কমলার তুলনায় অভিযোজন ক্ষমতা বেশি হওয়ায়, পাহাড়ি এলাকার ফলটি বর্তমানে মধুপুরে লাল মাটিতে সহজেই চাষ করা যাচ্ছে। গাছ রোপনের ১ বছর পর কিছু ফলন পেলেও মাল্টা এবং কমলা গাছ সাধারণত গাছ রোপনের দুই বছর পর থেকে পরিপূর্ণ ফলন শুরু হয়। তাই চাষিকে অপেক্ষা করতে হয় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। চারা রোপনের পর যেহেতু চারার পরিচর্যা করতেই হবে সে খেয়ালকে সামনে রেখে নতুন উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর কবির তার মাল্টা এবং কমলা বাগানে আনারসের চারা রোপন করেন।
গতকাল শুক্রবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তার মাল্টা বাগানে আনারসের ভালো ফলন হয়েছে। জাহাঙ্গির কবির বলেন, মধুপুরের লাল মাটিতে মাল্টা এত ভালো ফলন হবে এবং সুস্বাদু হবে আমি কখনো ভাবতে পারিনি। আমি আড়াই বছর পূর্বে ২শ’ টি মাল্টার চারা ও ৩৭টি কমলার চারা রোপন করেছি। প্রথম বছর আমি মাল্টা বিক্রি করিনি। যেগুলো মাল্টা গাছে ধরেছিল সেগুলো গ্রামের বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা খেয়েছে।
দ্বিতীয় বছর আমি এক লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। তখন আমার মনে হল মাল্টা বাগানে আমি যদি জলডুঙ্গি আনারসের চারা রোপন করি তাহলে একসঙ্গে ২টি ফসল পাবো। তখন আমি সেই খেয়াল থেকে ২৮ হাজার টাকা দিয়ে ১৭ হাজার জলডুগি আনারসের চারা ক্রয় করি এবং মাল্টা বাগানে রোপন করি।
চলতি বছর আনারস এবং মাল্টা বাগানে খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। আমি শুধু আনারস বিক্রি করতে পারবো ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। মাল্টাসহ বিক্রি করতে পারবো আশাকরি ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। চলতি বছর আমার বাগানের বয়স আড়াই বছর তাই আমি পরিপূর্ণ মাল্টা ফলন পেতে যাচ্ছি।
মাল্টা চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে আনারস চাষ অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। এতে এক খরচে দুই ফসল বিক্রি করা যায়। মাল্টা বাগানে আনারসের চারা রোপন করে বাড়তি আয় করা সম্ভব। তিনি বলেন, গ্রামের বেকার যুবক যারা রয়েছেন তাদের যদি সৎ ইচ্ছা থাকে তাহলে প্রথমে অল্প পরিসরে চারা লাগিয়েও মাল্টা চাষ শুরু করতে পারেন। এছাড়া মধুপুরের লালমাটিতে পেয়ারা চাষি কিরন সাহেবসহ অনেকেই বাণিজ্যিক ভাবে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আলমানুন রাসেল বলেন, মাল্টা চাষে ভালো ফসল উৎপাদন ও উন্নতির লক্ষ্যে আমরা চাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি।
আনন্দবাজার/শহক









