অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
জ্বালানি তেলের কমিশন এবং ট্যাংকলরি ভাড়া কমানোর প্রতিবাদে খুলনায় তেল উত্তোলন বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছে জ্বালানি তেল ও ট্যাংকলরি মালিকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখে এ ধর্মঘট পালন করছেন তারা। ফলে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও বৃহত্তর ফরিদপুরের ৪ জেলায় তেল পরিবহন ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংগঠন সূত্র জানা যায়, তাদের দাবিগুলো হলো জ্বালানি বিক্রিতে প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ করা, ব্যবসায়িদের কমিশন এজেন্ট গেজেট আকারে প্রকাশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশদ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল এবং পেট্রল পাম্পের ওপর ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া অন্য সংস্থার লাইসেন্স প্রথা বাতিল করা।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। আর খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ৪ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের মূল্যর সঙ্গে আনুপাতিক হারে জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বাড়াতে হবে। তা না হলে আমরা টিকে থাকতে পারবো না।
তিনি বলেন, জ্বালানী তেলের কমিশন বৃদ্ধি, ট্যাংকলরি ভাড়া বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে আসছি। অথচ গতকাল (সোমবার) রাতে তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি আমাদের কমিশন ও ট্যাংকলরি ভাড়া কমানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ সকাল ৮টা থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়িরা।
ব্যবসায়িরা জানান, গতকাল রাতে জ্বালানী তেলের মূল্য ৫ টাকা কমানো হয়েছে। সেইসঙ্গে জ্বালানী তেলের কমিশন লিটারে ১৩ পয়সা এবং ট্যাংকলরি ভাড়া ৩ পয়সা কমানো হয়েছে। যার প্রতিবাদে আজ সকাল ৮টা থেকে হঠাৎ জ্বালানী তেল উত্তোলন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছে তারা। ফলে খুলনাসহ ১৫ জেলায় ট্যাংকলরিতে তেল পরিবহন ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির খুলনা বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোড়ল আব্দুস সোবাহান বলেন, ব্যবসা করার কোন পরিবেশ নেই। এখনই ৮/৯টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেওয়া লাগছে। আরও অনেকেই লাইসেন্স নিতে বলছেন। এতো লাইসেন্স কেন প্রয়োজন, কি কাজে লাগবে। এছাড়া তেলের কমিশন বাড়ানো এবং ট্যাংকলরি ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছি আমরা। অথচ তেলের দাম যখন বাড়লো তখন কমিশন সেই পর্যায়ে বাড়ানো হয়নি। অথচ ৫ টাকা দাম কমানোর সাথে কমিশন ও ট্যাংকরি ভাড়া কমানো হয়েছে। সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায় কি করছে, কি ভাবছে আমাদের বোধগম্য নয়।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম কাবুল বলেন, তিন দফা দাবি জানিয়ে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমাদের দাবির বিষয়ে সুরহা হবে এমন কথা বলা হয়। অথচ রাতে দেখলাম কমিশন বাড়ানোর স্থানে উল্টো কমানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ট্যাংকলরি ভাড়া কমানো হয়েছে। সকালে খুলনার ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছে ব্যবসায়িরা। অনির্দিষ্টকালে জন্য এই ধর্মঘট চলবে।
এর আগে একই দাবিতে গত ২২ আগস্ট ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করেন খুলনাসহ সারাদেশের জ্বালানি তেল ব্যবসায়িরা। ওই দিন ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। তাছাড়া
গত ৭ আগস্ট সকাল-সন্ধ্যা ২৪ ঘণ্টার জন্য ধর্মঘট ডেকেছিল বাংলাদেশ ট্যাংক লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও জ্বালানি তেল পাম্প মালিক সমিতি। তবে ৯ ঘণ্টা ধর্মঘট পালনের পর খুলনা জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়। অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা গুনতে হবে। এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটারের দাম ১৩০ টাকা।
গতকাল সোমবার ফের ৫ টাকা করে কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ফলে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ডিজেল ১০৯ টাকা, পেট্রোল ১২৫ টাকা ও অকটেন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।









