করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। গত ১০ কার্যদিবসে ৫৪ হাজার কোটি টাকা বাজারমূলধন কমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)। মূল্যসূচক কমেছে ৮৬১ পয়েন্ট। বুধবার একদিনেই কমেছে ১১ হাজার কোটি টাকা। একই অবস্থা অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে এক ঘন্টা কমিয়ে আনা হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের সীমা।
অর্থনীতিবিদরা জানান, এ পতন স্বাভাবিক নয়। এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় হয়েছে। এর কারণ হিসেবে একেকজন একেক ধরনের কথা বলছেন। কেউ বলছেন, করোনাভাইরাস আতঙ্ক। কেউ বলছেন, অর্থনীতি খারাপ। তবে আমার বক্তব্য পরিষ্কার। আর তা হল- এ ধরনের দরপতনের যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। এ পতনের পেছনে কারা জড়িত সেটি খুঁজে বের করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কী করছে, তা তদন্ত করা উচিত। তিনি আরোও বলেন, মধ্য মেয়াদে বাজার উন্নয়নে সুশাসন ও ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এগুলো সময়ের ব্যাপার। বাজারে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। তার মানে এই নয় যে, হঠাৎ করে এ ধরনের পতন হবে।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে দরপতন ছিল। এরপর গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত তিন রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এতে দরপতন আরও তরান্বিত হয়। আর গত ১০ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজারমূলধন ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা থেকে ২ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে বাজারমূলধন ৫৪ হাজার কোটি টাকা কমেছে। এছাড়াও ডিএসইর ব্রডসূচক এ সময়ে ৮৬১ পয়েন্ট কমেছে। একক দিন হিসেবে বুধবার ডিএসইতে ৩৫৬টি কোম্পানির ১৭ কোটি ৮৪ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪২৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩টি কোম্পানির, কমেছে ৩৩৩টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
আনন্দবাজার/ টি এস পি








