নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। একই সাথে বলেন, দেশের নির্বাচনে যে সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন হয়, এটা বিশ্বে বিরল।
গতকাল রবিবার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ পরামর্শ দেন তিনি। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ও সচিবদের সঙ্গে এ সভায় আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।
নূরুল হুদা বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে যে সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন হয়, এটা বিশ্বে বিরল। মনে হয়, পৃথিবীতে কোথাও নেই। শত শত, হাজার হাজার লোক বন্দুক হাতে যুদ্ধাবস্থার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। আমি দায়িত্বে থাকতে বলেছি, এখনো বলছি যে, এসবের প্রয়োজন নেই।
বিগত নির্বাচনে তাদের অ্যাকটিভিটিজ আমরা দেখেছি মন্তব্যে করে নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচন পরিচালনার কোনো কাজে তারা আসে বলে আমার মনে হয় না। সুতরাং আমাদের এই এলিট ফোর্স সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের সময় মাঠে নামানোর কোনো দরকার নেই।
৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে জানিয়ে নূরুল হুদা বলেন, আমরা যখন স্কুলে ছিলাম, তখন দেখতাম একজন চৌকিদার বাঁশি মুখে আর হাতে লাঠি নিয়ে একটা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করত। এখন আর্মি, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ নামে। একটা কেন্দ্রে যত সংখ্যক সশস্ত্র সদস্য থাকে, তা একটা থানার সমান। এখন তো আমাদের সেই পরিস্থিতি নেই যে, বাক্স আছে লোকজন ব্যালটে ভোট দেবে। এখন আছে ইভিএম। ইভিএম এমন একটা বিষয় যেখানে বাক্স ছিনতাই করা যায় না। একজনের ভোট আরেকজন দিতে পারে না। নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে ইভিএম চালু করা যায় না। এর যথেষ্ট সুবিধা আছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব বেগম জেসমিন টুলী, সাবেক সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, সাবেক সিইসি শামসুল হুদা, সাবেক সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. আবু হাফিজ প্রমুখ।









