সরকারকে কঠোর হতে হবে বাংলাদেশ বিমানের সেবা ডিজিটালাইজড হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একথা জানিয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়া সত্ত্বেও বিমানের মতো একটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কেন এতদিনে ডিজিটালাইজড হয়নি। এ প্রশ্ন উঠাটা খুবই স্বাভাবিক। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল শুধু নয়, বলা যায় সর্বমহলেই নানা কথা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমান নিয়ে এমনিতেই কথার শেষ নেই। এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন থেকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য নানা তীর্যক কথা শোনার প্রতিষ্ঠান নিজেরাই তৈরি করে নিয়েছে। ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও তার বক্তব্যে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ডিজিটালাইজড হলে মানুষ ঘরে বসে টিকিট কাটতে পারবে, আর সিট খালি থাকলেও সিট নেই একথা তখন বলতে পারবেন না। বিমানের সিট খালি অথচ মানুষ টিকেট কাটতে গেলে টিকেট পায় না।
এই অবস্থার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সেটা উপলব্ধি করেই কথাটি বলেছেন। এছাড়া বিমানের সেবা নিয়ে তো কথার শেষ নেই৷ দেশের এত বড় একটি মাথাভারী প্রতিষ্ঠান কিন্তু মানুষ সেবা থেকে মানুষ বঞ্চিত। ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেবার গুণগত মান উন্নয়ন করতে হবে। অন্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং নতুন প্রযুক্তি ও শিক্ষা গ্রহণে মনযোগী হতে হবে। প্রযুক্তি শেখা,নিয়ে আসা এবং সেটাকে কার্যকর করায় মনযোগী হতে হবে। কার্গো হ্যান্ডলিং, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সবকিছু আন্তর্জাতিক মানের হোক। যাত্রীরা যেন কষ্ট না পায়। তিনি কাস্টমস সিস্টেমও ডিজিটাল করার জন্য বলেন। মানুষ যেন হয়রানীর শিকার না হন। যাত্রীসেবা সহজ করার কথা বলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা নির্দেশনা দিয়েছেন বা বলেছেন তা সম্পূর্ণই যাত্রী ও জনবান্ধব কথা বলেছেন। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কেন এসব নির্দেশনা দিতে হবে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন,যারা এটার দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন তাদের কাজ কি? বিমানের এত জনবল, এত সম্পদ, এত বিশাল বিশাল অট্টালিকায় অফিস থাকা সত্বেও কি কাজ হয় সেখানে। যেখানে গাবতলী থেকে যেসব বাস দূরপাল্লায় চলে তাদের টিকেট বিক্রি সিস্টেমও ডিজিটালাইজড কয়েক বছর আগে থেকেই। মানুষ বাসের টিকেট কাটছে অনলাইনে ঘরে বসেই। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলোও বহু আগেই ডিজিটালাইজড। এমনকি দেশে পরিচালিত এয়ারলাইন্সগুলোও ডিজিটালাইজড অনেক আগেই। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এত পিছিয়ে কেন? কিসে তাদের অভাব, নাকি অন্যকোনো দুর্বলতা। যেসব নিয়ে আঙ্গুল ওঠে সেসব একেবারে ফেলে দেয়ার মতো কথা নয়। ফলে এসব আগে দূর করতে হবে। না হলে ডিজিটালাইজড হলেও তখন প্রায়ই সারভার নষ্ট থাকবে।
কারণ গোয়ালে দুষ্ট গরু থাকলে যা হয়, সেখানেও তাই হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর হতে হবে। গোয়াল থেকে দুষ্ট গরু বের করতে হবে৷ দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল। সেকথা কার্যকর করতে হবে। না হলে বিমান নিয়ে কথা বন্ধ হবে না। মানুষ সেবাও পাবে না। সেবা দিতে হলে আগে সেবার অবস্থা তৈরি করতে হবে। মানুষ বলে সরকারের বিআরটিসি, রেলওয়ে আর বিমান এগুলো কখনো ভালো হবে না। যাত্রী সেবা দিতে পারবে না। এ অভিযোগ থেকে বেরিয়ে আসতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার বিকল্প নেই।









