অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নীলফামারীর পানির গুণগতমান পরীক্ষাগার। গেল অর্থবছরে অবকাঠামো নির্মাণ হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আর জনবল না থাকায় নেই কোন কার্যক্রম।
এতে নিরাপদ পানির ব্যবহার সুনিশ্চিত না হওয়ায় মানুষজন আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া, টাইফয়েট, নিউমোনিয়া, অঙ্গহানি এমনকি ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগে। পানি পরীক্ষাগার চালু না হওয়ার কারণ হিসাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে দুষছেন স্থানীয়রা।
নীলফামারীর ৫ লাখ ৫ হাজার ৬০৪টি পরিবারের প্রায় ২১ লাখ মানুষ পান করা থেকে শুরু করে গৃহস্থালীর সব কাজে নিরাপদ ভেবে ব্যবহার করছেন নলকূপের পানি। এ পানি কতটুকু নিরাপদ জানা নেই তাদের। অথচ বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, আর্সেনিক, লেট, আয়রনসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান নলকূপের পানিতে বিদ্যমান।
স্থানীয়রা বলছেন, পানির গুণগতমান পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নলকূপের পানিকে নিরাপদ ভেবে পান করছেন তারা। এতে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন অনেকে।
শহরের শাহীপাড়ার বাসিন্দা সুফিয়া ইয়াছমিন ও মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা হোসনেয়ারা লাভনী জানান, পানিতে কি পরিমাণ কীট পতঙ্গ আছে তা জানা নেই। তবুও টিউবয়েলের পানি নিরাপদ ভেবে পান করছি।
এছাড়া শহরের বেশ কয়েকটি হোটেলের কর্মচারিরা জানান, গ্লাসগুলো লালচে এবং জগ ও গ্লাসের তলানিতে স্তর জমে।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জানালেন, সপ্তাহে অন্ত:ত তিনশ’ রোগী পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। তাদের চিকিৎসা সেবা হিমসিম খেতে হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুরাদ হোসেন জানান, অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে তবে যন্ত্রপাতি আর জনবল না পাওয়ায় পানির গুণগতমান পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ডা. আবু আল-হাজ্জাজ জানান, পান করাসহ গৃহস্থালির সব কাজে নিরাপদ পানি ব্যবহার না করায় ডায়রিয়া, টাইফয়েট, নিউমোনিয়া, অঙ্গহানি এমনকি ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।
আনন্দবাজার/শহক








