দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বৈধ বালুমহাল না থাকায় নির্মাণকাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ। স্থানীয়ভাবে বালু সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় দূরবর্তী এলাকা থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বালু এনে কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে সরকারও প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বালুমহাল ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে ফুলবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকার একটি বালুমহালের ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ৬৭ লাখ ২৪ হাজার ৬২৮ টাকা। তবে ইজারাগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করায় ইজারা বাতিল করা হয়। এরপর থেকে উপজেলায় আর কোনো বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। ফলে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের পথও বন্ধ হয়ে আছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নির্মাণসংশ্লিষ্টরা জানান, আগে ছোট যমুনা নদীতে দুটি সরকারি বালুমহাল থাকলেও কয়েক বছর আগে তা বিলুপ্ত করা হয়। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে বালু না পাওয়ায় দিনাজপুরের পাঁচবাড়ী, মোহনপুর ও চিরিরবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশি দামে বালু এনে নির্মাণকাজ চালাতে হচ্ছে। এতে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক, ভবন, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
এদিকে, বাইরে থেকে আনা বালু উপজেলা পরিষদ সড়কের কাটিয়ারধর, নতুন সেতুর পাশ, চাঁদপাড়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা ও ফায়ার সার্ভিসের পূর্ব পাশে মজুদ করে বিক্রি করা হচ্ছে। পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বাড়ায় এসব বালুর দামও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বালুর সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে একটি চক্র ছোট যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে গোপনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে এসব বালু সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রেতা রেজাউল করিম ও আব্দুল মালেক বলেন, আগে প্রতি ট্রলি বালুর দাম ছিল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। এখন তা বেড়ে প্রকারভেদে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায় পৌঁছেছে। তারা বলেন, বালুমহাল পুনরায় চালু করে ইজারার মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে নির্মাণ ব্যয় কমবে এবং সরকারও রাজস্ব পাবে।
স্থানীয়দের দাবি, বৈধ বালুমহাল চালু করলে যেমন নির্মাণ খাতে স্বস্তি ফিরবে, তেমনি অবৈধ উত্তোলনও বন্ধ হবে এবং বাজারে বালুর দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, বর্তমানে ফুলবাড়ীতে কোনো সরকারি বালুমহাল নেই এবং নীতিমালার শর্ত পূরণ না হওয়ায় নতুন করে বালুমহাল করার সম্ভাবনাও কম। তবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।









