আগামী মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হতে পারে। শনিবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই হিসেবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অধিবেশনের প্রথম দিনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেবেন। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জনস্বার্থে জারি করা জরুরি অধ্যাদেশগুলো এই অধিবেশনে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উত্থাপন করা হবে।
সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যে নতুন সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাতে সংস্কার ও প্রস্তুতির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট মিটিংয়ে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি নির্মূলের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের খসড়া নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়, যা চলতি মাসের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৬৮টি আসন। বিএনপি সংসদীয় দল তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করেছে। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং উপনেতা হয়েছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। এছাড়া জাতীয় সনদ ও নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, এবারের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নতুন এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। তবে প্রথম অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, সে বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে এখনও চূড়ান্ত স্পষ্টীকরণ পাওয়া যায়নি।









