চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ‘রেড গ্রাস’ নামে ভারত থেকে আনা বিপুল পরিমাণ জাফরান জব্দ করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘তোহা তাসু কর্পোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব জাফরান আমদানি করেছে। জব্দ করা পণ্যটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা।
বন্দর সূত্র জানায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজশাহীর বিসিএসআইআর ল্যাবের পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ‘রেড গ্রাস’ নামে আমদানি করা পণ্যটি আসলে জাফরান।
তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ এপ্রিল সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ‘রেড গ্রাস’ ঘোষণা দিয়ে পণ্যটি আমদানি করে ‘তোহা তাসু কর্পোরেশন’। পণ্যটি বন্দরের পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ভেতরে সংরক্ষিত থাকা অবস্থায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। পরে সেই নমুনা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর রাজশাহী গবেষণাগারে পাঠানো হলে ১৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনে তা জাফরান হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এ চালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল ‘মেসার্স সূচি এন্টারপ্রাইজ’। বর্তমানে দেশে জাফরানের দাম প্রতি কেজি ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা হওয়ায় পুরো চালানের বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সাব্বির রহমান জিসান জানান, ‘প্যাটস অব প্লান্টস’ নামে একাধিক পণ্যের তালিকার মধ্যে ২০০ কেজি ‘রেড গ্রাস’ উল্লেখ ছিল, যা দেখতে জাফরানের মতো। পণ্যটি রেড গ্রাস হিসেবেই আমদানি করা হয়েছিল, যা ভারতে ‘পূজাপাট্টি’ নামে পরিচিত। তবে সন্দেহজনক হওয়ায় তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং ল্যাব পরীক্ষায় এটি জাফরান হিসেবে চিহ্নিত হয়। বিষয়টি কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে আমদানিকারককে তলব করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলেও তিনি জানান।
বিসিএসআইআর-এর রাজশাহী গবেষণাগারের ফল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নমুনা পাওয়ার পর তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। পণ্যটি রেড গ্রাস নয়, বরং জাফরান—এটি নিশ্চিত হয়েছে। রঙের মিল থাকলেও দুটি ভিন্ন পণ্য। মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষাতেও এটি রেড গ্রাস নয় বলে প্রমাণ মিলেছে। সব ধরনের পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।









