খান জাহান আলী মাজার বাগেরহাট | বাংলাদেশের বাগেরহাটে অবস্থিত খান জাহান আলী মাজারের কুমিরগুলো হলো ঐতিহাসিক, আধা-বন্দী জলাভূমির কুমির, যারা পঞ্চদশ শতাব্দীর সুফি সাধক খান জাহান আলীর দিঘিতে বাস করে। কিংবদন্তি অনুসারে, এরা সাধকের পোষা প্রাণীদের বংশধর।
দর্শনার্থীরা প্রায়শই তাদের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য এই পবিত্র কুমিরগুলোকে খাবার নিবেদন করেন।এগুলো জলাভূমির কুমির এবং স্থানীয়দের বিশ্বাস, এরা খান জাহান আলীর বংশধর, যিনি এদের এই অঞ্চলে নিয়ে এসেছিলেন বলে মনে করা হয়।
ঐতিহ্যগতভাবে দর্শনার্থীরা তত্ত্বাবধায়কদের মাধ্যমে কুমিরদের মুরগি বা ছাগল খাওয়ান, যারা এদের 'কালাপাহাড়' এবং 'ধোলাপাহাড়' বলে ডাকেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে পুরুষ কুমিরটি (কালাপাহার) মারা যায় এবং স্ত্রী কুমিরটি (ধলাপাহার) থেকে যায়। ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য নতুন কুমির আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
গেল ৮ এপ্রিল সোশ্যাল মিডিয়া তে একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে দেখা যায় একজন বৃদ্ধ গার্ড এর পোশাক পরিহিত লোক এর সামনে দিঘির পাড় থেকে একটি কুকুর কে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি। এসময় কুকুরটি দুর্বল হয়ে পানির মধ্যেই দাঁড়িয়ে ছিল, বাঁচার চেষ্টা বলতে শুধুই অসহায় চাহুনি কারন এর পা বাঁধা ছিল।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা অস্বীকার করে এরকম ঘটনার। এর পর আজকে তারা নতুন এক রিল এ দাবি করে যে কুকুরটি আগে সেখানে কর্মরত গার্ডকে কামর দেয়ার কারনে কুমিরটি এগিয়ে এসে কুকুরটিকে কামড়ে ধরে নিয়ে যায়। তাদের ধারাভাষ্য একবারেই ঠুনকো এবং তারা কুকুর কামরের ওষুধের একটি প্রেসক্রিপশন দেখায় যেটায় কোন তারিখ নেই।
পশু কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী রাস্তার পশুদের বিষপ্রয়োগ, নির্যাতন বা হত্যা করা বেআইনি। রাস্তার পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, নির্যাতন বা হত্যা করা বেআইনি। নাগরিকরা এই ধরনের কাজ যারা করে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
আশা করা যায় স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত হস্তখেপ করে এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনবেন।









