করোনা মহামারি আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি যে বিশাল চাপে পড়েছে তার প্রভাবে বৈশ্বিক মহামন্দা আর দুর্ভিক্ষের আভাস দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা। তাদের মতে, সম্ভাব্য এই সংকট মোকাবিলায় উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। শেষ ভরসা হিসেবে তারা কৃষিখাতের কথাই বলছেন। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশেও শেষ ভরসা কৃষিই। এ নিয়ে তিন পর্বের বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ফারুক আহমাদ আরিফ। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব- কৃষিতে হতাশ তরুণরা।
কৃষিকে ঘিরে গ্রামীণ জীবনধারায় যে কর্মমুখরতা ছিল তা এখন নেই বললেই চলে। কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে কৃষিকাজে যুক্ত রয়েছেন মানুষ। কৃষির সেই সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনতে নেই কোনো উদ্যোগ। কৃষি উৎপাদনের পেছনে বিনিয়োগ করার চেয়ে বিদেশ থেকে আমদানিতেই আগ্রহী সরকার আর ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, তরুণরা আর ফিরেও তাকাচ্ছেন না কৃষির দিকে। তারা শহরের প্রাণহীন উজ্জ্বল জীবনের সন্ধানে প্রাণপাত করে চলেছেন।
কৃষিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষির প্রতি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অনীহার আর বিতৃষ্ণার প্রধান ও অন্যতম কারণ উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। একটি ফসল ঘরে তুলতে সাড়ে চার হতে ৫ মাস পরিশ্রম শেষে শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হয়। বছরের পর বছর ধরেই চলছে এমন বঞ্চনা। তাই বাধ্য হয়েই অনেকে কৃষি পেশা ত্যাগ করে অন্য পেশায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকে চলেও গেছে। আর যাদের বিকল্প সুযোগ নেই তারা এখনও কৃষিতে পড়ে থাকছেন।
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষিত তরুণদের দৃষিভঙ্গি বদলানোর তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সোনার হরিণ চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্যে কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিতে দেখা গেছে। পতিত জমি খুঁজে বের করার জন্য সচিব ও জেলা প্রসাশকদেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকেও কৃষিপণ্য উৎপাদনে গুরুত্বারোপ করা হয়।
অবশ্য, নানা দিক নির্দেশনা দেয়া হলেও শিক্ষিত তরুণরা ঠিক কীভাবে কৃষিকাজে যুক্ত হবেন সে ব্যাপারে একেবারেই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা, পরিকল্পনা ও অর্থায়ন এখন পর্যন্ত করা হয়নি। শুধু তাই নয়, কৃষিতে আগ্রহী শিক্ষিত বেকার তরুণদের কোনো তালিকা বা ডাটাবেইজ তৈরিতে কোনো উদ্যোগও নেই। শুধু নির্দেশনা কিংবা স্বপ্ন দেখানোর মধ্য দিয়ে তরুণরা কৃষিমুখি যে হবে না তা মাঠ পর্যায়ে বেশকিছু তরুণের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে।
তরুণরা বলছেন, কৃষিকাজে কোনোই লাভ নেই। ফসল ফলাতে যে পরিমাণ অর্থব্যয় হয় তা উঠে আসে না। কৃষকের শ্রমের ন্যায্যমূল্য তো কখনই পাওয়া হয়ে ওঠে না। এসব কারণেই কৃষিকাজে তরুণদের অনীহা চরম মাত্রার। যদিও কিছু তরুণ পোল্ট্রি, মাছচাষে সাফল্য দেখিয়েছেন তা সামান্যই। বেশিরভাগ তরুণের কাছেই কৃষি এক অবহেলিত ও মর্যাদাহীন পেশা। কৃষিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও খুব কমসংখ্যক শিক্ষার্থীই কর্মজীবনে কৃষিকে বেছে নেন। বরং তারা ছোটেন ব্যাংক, প্রশাসনসহ ভিন্ন খাতের বড় চাকরির সন্ধানে।
আব্দুল্লাহ আল নুরুল্লাহ স্নাতক পাশ করে ব্যবসার পাশাপাশি কয়েক শতাংশ জমিতে ফসল ফলান। তিনি জানান, কৃষিকাজে কোনো মুনাফা নেই। শুধুই সময় কাটানোর জন্য কৃষিকাজ করি। এক কাঠা (সাড়ে ৬ শতাংশ) জমিতে ধানচাষ করলে গড়পড়তা ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। উঠে আসে সাড়ে ৬-৭ হাজার টাকা। খড়ে বাকিটা পোষায়। তবে আমন ও আউস মৌসুমে কম খরচ হয় সেচ কমের কারণে। বোরো মৌসুমে হয়তো ভালো ফলন সকলেরই হয়। তখন ব্যয় উঠে আসে। বাকি দুই মৌসুমে লোকসান যায়। ধানচাষ করে গত ১০ বছরে জমি কিনেছেন গ্রামে এমন লোকের সংখ্যা চোখে পড়ে না।
নুরুল্লাহ আরও বলেন, গ্রামীণ শিক্ষিত তরুণরা কৃষিতে বাপ-দাদার লোকসানি পেশায় ফেরার আগ্রহ দেখায় না। তবে সরকার যদি কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করতে পারে তখন পরিবর্তন হতে পারে। এজন্য তরুণদের সঠিক ডাটা তৈরি করে শুরুতেই পুঁজি বিনিয়োগ করতে অর্থায়নসহ আনুসঙ্গিক সবকিছুই দিতে হবে।
রাসেল আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম রাজিব তারা স্নাতক শেষ করে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঋণ তুলে গরুর খামার করেছিলেন। দুটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করে দুই বছরে ৮-১০টি গরুতে ভরপুর হয় তাদের খামার। ছোট ভাই রিজন আহমেদ প্রতিনিয়ন গরুর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। অবশ্য খামারে খড়ের জন্য কিছু জমি নিজেরা চাষও করেন। ভাগ্য আর সহায় হয়নি। খামারের পাশেই অন্য এক চাষি লেয়ার মুরগির পোল্ট্রি দেয়ায় সেখানকার বর্জ্যে খামারের পরিবেশ নষ্ট করে। এক বছরের মধ্যে কয়েকটি গরু মরে যায়। অসুস্থ হয়ে পড়ে বাকিগুলো। কয়েকটি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেয়া হয়। এখন মাত্র দুটি গরু আছে খামারে। আর লেয়ার পোল্ট্রির মালিকেরও মুরগি মরে গিয়ে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।
রাসেল, রাজিব আবার চাকরির পেছনে ঘুরছেন। আর রিজন একটি গার্মেন্টসে চলে গেছেন। ভোর ৬টা থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে আয় করছেন মাত্র সামান্য অর্থ। রাজিব বলেন, কৃষিকাজে শিক্ষিত তরুণদের প্রথম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সাধারণ মানুষ এটিকে ভালোভাবে নেয় না। তাদের কথা হচ্ছে পড়ালেখা করে কৃষিতেই যদি আসো তবে আর পড়ে লাভ কী হলো? আবার দেশের বাজারে চাকরিও নেই। বড় করে জমি বন্ধক বা খোরাকি নিয়ে চাষে আসবে এই পরিমাণ ঋণও কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান শিক্ষিত তরুণদের দেয় না। সকলের তো জমি নেই। অর্থও নেই। এজন্য তাদের সরকারের ও বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত অর্থসহ সরঞ্জাম বিনিয়োগ করতে হবে।
সোহেল নামের এক তরুণ পোল্ট্রি ও লেয়ার মুরগির খামার করে কিছুটা আশার আলো দেখেছিলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করে বড় স্বপ্ন নিয়ে কৃষিতে মনোযোগ দিয়েছিলেন। এখন আক্ষেপ ছাড়া তার কথায় তেমন কিছুই বাকি নেই। সোহেল বলেন, ব্যাংকে ঋণের জন্য গেলে তা পাওয়া যায় না। বড় বড় ব্যবসায়ীরা সব দখল করে নেন। কোনো ব্যাংক ছোট খামারি বা চাষিদের বিনিয়োগ বা ঋণ দিতে চায় না। আসলে দেয়ই না। সামান্য কিছু ঋণ পেলেও দালালের পর দালালকে খুশি করতে হয়।
সোহেল আপেক্ষা করে বলেন, তরুণরা কি দেখে কৃষিকাজে আসবে? রাষ্ট্র কি তাদের প্রতি বিনিয়োগ করবে? আমার বাবার জমি ও পেনশনের টাকা ছিল। আমি শুরু করতে পেরেছিলাম। অনেক বন্ধু-বান্ধব আছে তাদের চাকরি নেই বা কৃষিতে আগ্রহী কিন্তু জমি ও অর্থের অভাবে তারা আসতে পারছেন না। চাকরির পেছনে ঘুরতে ঘুরতে জুতা ক্ষয় করছেন।
গত ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আমরা খাদ্যদ্রব্য আমদানি না করে যেগুলো দেশে উৎপান করা যায় তার উৎপাদন বাড়াবো। এতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হবে। দেখা গেছে, আমাদের দেশে উৎপাদন করলে আমদানি করে ডলার নষ্ট হতো না। দেশের অর্থনীতিও সচল থাকলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সেই নির্দেশনা দিয়েছেন।
এর মাস খানেক আগে ২৭ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সচিবদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লাইভস্টক ও ফিশারিজের নতুন নতুন ভ্যারাইটি উদ্ভাবনের বিষয়টি জানান। সরকারের বিভিন্ন জমিতে এগুলো যাতে উৎপাদন করা হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা প্রদান করেন। এক্ষেত্রে আমদানি ব্যয় অনেক কমে যাবে। প্রধানমন্ত্রী তথ্য প্রযুক্তির ১০টি প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আগে ৮ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে (একনেক) ডিসিদের সহায়তা নিয়ে অনাবাদি জমি খুঁজে বের করে আবাদযোগ্য করে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের এগ্রিকালচার এন্ড ফুড সিকিউরি অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি এমদাদুল হক বলেন, কৃষিশিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে যেসব শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছে তাদের প্রতিটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে সরকার পদায়ন করতে পারে। কারণ একটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে যে পরিমাণ জমি আছে তা যদি পরিকল্পিত চাষের আওতায় আনা যায় তবে তাদের বেতনের টাকা সেখান থেকেই আসবে।
এমদাদুল হক আরও বলেন, বিসিএস থেকে শুরু করে সরকারি যেসব চাকরিগুলো আছে সেখানে কৃষিবিদ পদায়ন থাকবে এবং কাজ করবে মাঠপর্যায়ে। তাহলে তরুণ শিক্ষিতরাও সরকারি সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি কৃষিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। কৃষিকে তখনই লাভজনক পেশায় পরিণত করা সম্ভব হবে যখন আধুনিক শিক্ষালব্ধ জ্ঞানে কৃষককে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এতে উভয়ই উপকৃত হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এমদাদ জানান, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বেশকিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। কৃষিবিদ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রফেসর, শিক্ষার্থী ও সাধারণ কৃষকদের সমন্বয়ে ওয়েবিনার করে প্রস্তাবগুলো তৈরি করা হয়। জাতীয় স্বপ্ন বাজেটে প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হয়। তাতে বলা হয়, কৃষিখাতের উন্নয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবন যাত্রার মান সম্পর্কিত।
বর্তমানে এ দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশের উৎস কৃষিখাত। এদেশের ৭০ ভাগের বেশি লোকজন সরাসরি কৃষির ওপর এবং গ্রামের ৮৭ ভাগ লোক কৃষির ওপর নির্ভরশীল। স্বাধীনতার ঠিক পরে ১৯৭২ সালে দেশের খাদ্য শস্য উৎপাদন হয় ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে শুধু চাল উৎপাদন হয় প্রায় চার কোটি টনের কাছাকাছি। ইতোমধ্যে দেশে দানাজাতীয় খাদ্যশস্য, আলু ও শাক-সবজিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে। ডাল, তৈলবীজ, মসলা ও ফল উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রে অধিক কর্মসংস্থান ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। অন্য প্রস্তাবগুলো-
১. কৃষি মন্ত্রণালয়কে ২৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা আহ্বান জানানো হয়। এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে সল্প সুদে ঋণ প্রদান ও করমুক্ত ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে।
২. ভালো ফলনের জন্য ভালমানের বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বীজের মান খারাপ হওয়ার কারণে ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটলে বীজ কোম্পানি কর্তৃক ভর্তুকি বা ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে, এবিষয়ে ঐ উপজেলা/ওয়ার্ডের কৃষি কর্মকর্তা কৃষককে সহযোগিতা করবে।
৩. মাছ, হাঁস-মুরগী, গবাদি পশুর মান সম্মত খামার গড়ে তুলতে হবে, খামারে ভেজালমুক্ত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে এবং খাদ্যের দাম যাতে কম হয় সে দিকে লক্ষ্য রেখে বাজেট প্রণয়ন ও তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. মাঠপর্যায়ে এলাকা ভেদে প্রতিটি ইউনিয়ন/ওয়ার্ডে কৃষি ও পশুসম্পদ কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। জমিতে সার প্রয়োগের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য বিনামূল্যে মাটি পরীক্ষা করে সুষম সারের ব্যবস্থাপত্র কৃষকদেরকে সরবরাহ করতে হবে। প্রত্যেক থানায় মাটি পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এজন্য গবেষণার জন্য বাজেট বাড়াতে হবে।
৫. রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জমিতে জৈব সার প্রয়োগ এবং পোকা দমনে জৈব পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও কমবে এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠবে।
৬. কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য সমবায় ব্যবস্থা চালু করতে হবে অথবা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য প্রতি উপজেলায় সরকারি এজেন্টের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কৃষিপণ্য ক্রয় করে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহসহ বিদেশে রফতানির ব্যবস্থা করতে হবে। কাঁচামাল সংরক্ষণের জন্য সরকারি এবং বেসরকারিভাবে সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর সমবায় নীতিটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
৭. কৃষকের সমস্যা যেমন- ভূমির অধিকার, সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা অর্জন, প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষিপণ্যের বহুমুখী ব্যবহার এবং কৃষিকাজে নারীদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকল্পে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জোনভিত্তিক কৃষিব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একই তথ্য সবার জন্য সরবরাহ না করে অঞ্চলভিত্তিক ফসল উৎপাদনের তথ্য দিতে হবে যাতে কোন এলাকায় কোনো ফসল ভালো হবে তা কৃষক জানতে পারে।
৮. ডাল, গম, ভুট্টা, বার্লি, সয়াবিন, সরিষা, দানা জাতীয় শস্য ও শাক সবজির গুণগতমান সমৃদ্ধ ফসলের আবাদ বাড়াতে হবে। লবণাক্ত ও খড়া সহিষ্ণু জাতের ফসল বেশি উদ্ভাবন করতে হবে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রেই উৎপাদন করে চাহিদা মিটাতে হবে ও রপ্তানিতে যেতে হবে।
৯. ফসলের উৎপাদন এবং তা বাজারজাতকরণের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয়মূল্য যেন সবসময় বেশি হয় সে বিবেচনা করে জাতীয়/আঞ্চলিকভাবে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
১০. এছাড়াও কৃষি সেক্টরে আগ্রহ বাড়াতে প্রকৃত কৃষকের ডাটাবেজ তৈরি ও কার্ড প্রদান করতে হবে। যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ, ফসল বিমা, সল্প খরচে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেতে পারে।
আনন্দবাজার/শহক









